মস্কোর সঙ্গে বেইজিংয়ের বাণিজ্যিক কার্যক্রম অব্যাহতভাবে বাড়ছে। ফলে বছর ব্যবধানে দুই দেশের মধ্যে চলতি বছর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চীনা কাস্টমসের ডেটার বরাতে রাশিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মস্কো-বেইজিংয়ের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য অব্যাহতভাবে বাড়ায় বার্ষিক ভিত্তিতে মার্চে উভয় দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত কাস্টমসের এ প্রতিবেদন অনুসারে, বছর ব্যবধানে রাশিয়ায় চীনের রফতানি ১৩৬ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে দেশটি থেকে চীন আমদানি বাড়িয়েছে ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ।
মার্চে সামগ্রিকভাবে রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশে চীনা গাড়ি, ইস্পাত, পোশাক ও প্লাস্টিক রফতানি অনেকটাই বেড়েছে। এদিকে গত মাসে আমদানিও বাড়িয়েছে চীন। পরিসংখ্যান বলছে, মার্চে বিভিন্ন দেশ থেকে বেইজিংয়ের কয়লা আমদানি অন্যান্য সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, যা বিগত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর বাইরে গত মাসে তেল আমদানি ২২ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়িয়েছে চীন। পাশাপাশি আকরিক লোহা আমদানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং সয়াবিন ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর মস্কোর ওপর দফায় দফায় নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পশ্চিমা দেশগুলো। পক্ষান্তরে চীনের সঙ্গে রাশিয়ার বাণিজ্য ক্রমাগত বেড়েছে। ফলে ২০২২ সালে উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়, যা বছর ব্যবধানে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে।
এপ্রিলের শুরুর দিকে প্রকাশিত প্রথম ত্রৈমাসিকের পরিসংখ্যান বলছে, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চলতি বছর ২০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে।
দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২২ সালে বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে চীনের শীর্ষ ২০ বৃহত্তম অংশীদারের মধ্যে অন্যতম ছিল রাশিয়া। এমনকি রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা হিসেবে ভারতের সঙ্গে ব্যাপকভাবে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত চীন। একই সঙ্গে রাশিয়ার কৃষিপণ্যের শীর্ষ আমদানিকারক হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ছাড়িয়ে গেছে চীন।