চীনের রাজধানী বেইজিং সফর করেছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান শি জিনপিং-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। এসময় শি জিনপিংকে ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে বিশেষ ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানান ম্যাক্রন। একমাত্র চীনই যে রাশিয়ার ‘হুঁশ ফেরাতে পারে’ সে কথাও বলেন তিনি। জবাবে শি জিনপিং স্বীকার করেন যে, বিশ্বে শান্তি রক্ষায় তার দেশের দায়িত্ব রয়েছে।বিবিসির খবরে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার চীন সফরে যান ম্যাক্রন। চীন ও পশ্চিমাদের মধ্যে সম্পর্ক যখন দিন দিন তলানির দিকে যাচ্ছে তখনই ম্যাক্রনের এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে পশ্চিম ও পূর্বের দেশগুলোর মধ্যে দূরত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলো নজিরবিহীন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং ইউক্রেনকে শত শত বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পাঠাচ্ছে। তবে ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো ছাড়া বাকি বিশ্ব রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত রেখেছে। যুদ্ধের প্রথম থেকেই চীন রাশিয়ার সামরিক অভিযানের নিন্দা জানানো থেকে বিরত থেকেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ অর্থনীতি ধাক্কা খেলেও চীন, ভারত ও তুরস্কের মতো দেশগুলো রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য কয়েকগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে।এর ফলে পশ্চিমাদের ছাড়াই টিকে গেছে রুশ অর্থনীতি। এরইমধ্যে গত মাসে মস্কো সফর করে রাশিয়া-চীন বন্ধুত্ব কত শক্তিশালী তার প্রমাণ দিয়েছেন শি জিনপিং। এমন অবস্থায় একমাত্র চীনই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বুঝাতে সক্ষম বলে বিশ্বাস ম্যাক্রনের। তিনি শি জিনপিংকে বলেন, আমি জানি যে রাশিয়ার হুঁশ ফেরাতে এবং সবাইকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে আমি আপনার উপর নির্ভর করতে পারি। উত্তরে শি বলেন, বিশ্ব শান্তি রক্ষায় চীন ও ফ্রান্সের ‘সামর্থ্য ও দায়িত্ব’ রয়েছে। এছাড়া চীনের সঙ্গে ফ্রান্সের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চাইছেন তিনি। তার সঙ্গে ওই সফরে যোগ দেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডের লেইন।বৃহস্পতিবার বিকেলে শি জিনপিং ও ম্যাক্রনের মধ্যে একটি রুদ্ধদ্বার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটিকে চীন এবং ফরাসি কর্মকর্তারা ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় শি জিনপিং বলেন, চীন ইউক্রেনে শান্তি আলোচনার পক্ষে এবং একটি রাজনৈতিক সমাধান চায়। তিনি আবারো বলেন যে, সংঘাতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা উচিত নয়। অপরদিকে ম্যাক্রন বলেন, যতদিন ইউক্রেন অন্য কারো দখলে থাকবে ততদিন আমরা একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল ইউরোপ পাব না। রাশিয়া যা করছে তা অগ্রহণযোগ্য। তার বক্তব্যের সময় ম্যাক্রন বারবার শি জিনপিং-এর দিকে ফিরে তাকে সরাসরি সম্বোধন করছিলেন। ফন ডের লেইন জোর দিয়ে বলেন, চীন যদি রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করে তবে তা হবে আন্তর্জাতিক আইনের লংঘণ। চীন এমন কাজ করলে তা ইউরোপের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্থ করবে।