ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা ও দলটির সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী লোকসভায় তার হারানো সদস্যপদ ফিরে পেতে পারেন। তবে সেজন্য উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের রায় প্রয়োজন হবে তার। ভারতীয় সংবাদমাদ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ যদি রাহুল গান্ধী যে মামলায় দুই বছর কারাদণ্ড পেয়েছেন সেই মামলার রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ বা স্টে অর্ডার দেন তবে রাহুল গান্ধী লোকসভার স্পিকারের কাছে তার সদস্যপদ ফেরত পাওয়ার আবেদন জানাতে পারবেন।
মোদি ডাকনাম নিয়ে মন্তব্য করার ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) মানহানির মামলায় রাহুল গান্ধীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয় গুজরাটের সুরাটের একটি আদালত। তার মাত্র একদিন পরই শুক্রবার (২৪ মার্চ) তাকে লোকসভায় অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। তবে আদালত রাহুল গান্ধীকে আপিল করার জন্য ৩০দিন সময়ও দিয়েছে।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট বিকাশ সিং বলেছেন, রাহুল গান্ধীকে খুব দ্রুত সবকিছু করতে হবে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন তার কেরালার ওয়ানাদের আাসনটি খালি ঘোষণা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তার উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে এবং সাজার মেয়াদের ওপর স্থগিতাদেশ নিতে হবে।
বিকাশ সিং আরও বলেন, ‘যদি স্থগিতাদেশ পাওয়া যায় তবেই কেবল তিনি তার সদস্যপদ (লোকসভায়) ফেরত পাওয়ার আবেদন করতে পারবেন। তবে তার জন্য তাকে অতিদ্রুত আপিল বিভাগের শরণাপন্ন হতে হবে। তিনি যদি স্থগিতাদেশ পান তবেই কেবল তার আসনে কোনো উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না।’
বিকাশ সিংয়ের মতো একই মনোভাব পোষণ করেছেন জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেটে অজিত সিনহা। তিনি বলেছেন, ‘উচ্চ আদালত তার (রাহুল গান্ধী) সাজার আদেশ স্থগিত করতে পারেন এবং এর ধারাবাহিকতায় তিনি লোকসভায় তার আসন ফিরে পেতে পারে।’
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং ভারতের সংবিধান বিশেষজ্ঞ রাকেশ দ্বিবেদী বলেছেন, তার মত হলো এখনই রাহুলের সদস্যপদ বাতিলের বিষয়টি বেআইনি। কারণ রাহুলকে আদালত ৩০ দিন দিয়েছেন রায় চ্যালেঞ্জ করার জন্য এবং এক্ষেত্রে তিনি আদালত থেকে সাজার ওপর স্থগিতাদেশ নিতে পারেন।