প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রতিহত করতে হাইপারসনিক অস্ত্র প্রযুক্তিতে একে অপরকে টেক্কা দিতে ব্যস্ত বিশ্ব পরাশক্তিগুলো। হাইপারসনিকের সক্ষমতায় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে রাশিয়া-চীন নাকি যুক্তরাষ্ট্র, কে কার চেয়ে এগিয়ে?
এবার খোদ যুক্তরাষ্ট্র বলছে, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতায় এগিয়ে রাশিয়া ও চীন। আর তাই মস্কো ও বেইজিংকে টেক্কা দিতে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে নতুন কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াশিংটন।
সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ সব কার্যক্রমে রাশিয়া ও চীনের অভাবনীয় উন্নতিকে রীতিমতো হুমকি বলেই মনে করছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মাইকেল গিলডে জানান, মস্কো-বেইজিংয়ের কর্মকাণ্ড মোটেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা। প্রতিরক্ষার কৌশল হিসেবে তাই নিজেদের হাইপারসনিক মিসাইল ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াশিংটন।
মাইকেল গিলডে বলেন, রাশিয়া ও চীন যেভাবে নিজেদের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা প্রমাণ করছে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি। নিশ্চয়ই ওয়াশিংটন সতর্ক অবস্থানে আছে। এই মুহূর্তে মিসাইল সিস্টেমকে আরও উন্নত করতে যা যা করা প্রয়োজন আমরা তাই করছি।
শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি গতিতে চলতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রকে বলা হয় ‘হাইপারসনিক’। ১ থেকে ৫ গুণ গতির মধ্যে চললে ‘সুপারসনিক’। আর শব্দের চেয়ে কম গতিতে চললে সেটিকে বলা হয় ‘সাবসনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র।
ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযানে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যুদ্ধে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়া।
হাইপারসনিক গতির অ্যারোব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র গ্লাইড ভেহিকল ‘এইচজিভি’, ক্রুজ মিসাইল ‘এইচসিএম’ সিস্টেমের ব্যবহার, লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগের যাবতীয় প্রক্রিয়ায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে চীনও।