রাশিয়ার কয়েকটি যুদ্ধবিমান চুরির পরিকল্পনা করেছিল ইউক্রেন। তবে রাশিয়ার গোয়েন্দারা সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। রুশ গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা বিষয়টি রাশিয়ার গণমাধ্যম আরটিকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। এ নিয়ে একটি এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে গণমাধ্যমটি। ওই রিপোর্টে বলা হয়, ইউক্রেন যাদের মাধ্যমে রাশিয়ার সামরিক বিমান ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেছিল ওই পাইলট তাদের একজন। দেশটি যে কোনো উপায়ে রাশিয়ার অস্ত্র চুরি করতে চেয়েছিল। এ জন্য ইউক্রেনের তরফ থেকে এই পাইলটদের ব্যাপক অর্থের লোভ দেখানো হয়। এমনকি বলা হয়, তাদেরকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকত্বও পাইয়ে দেয়া হবে। কিন্তু এসব লোভে শেষ পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি।
আরটি জানিয়েছে, এ জন্য ইউক্রেন বিশেষ এজেন্ট নিয়োগ করে। এই পরিকল্পনায় মার্কিন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একটি তদন্ত সংস্থার এক কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন।
ইউক্রেনের এজেন্টরা এ ব্যাপারে রাশিয়ার সু-৩৪ বিমানের একজন পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তাকে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার দেয়ার কথা জানায়। প্রথমে ওই পাইলট বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন নি। কিন্তু পরবর্তীতে ইউক্রেনের এজেন্টদের চাপাচাপির কারণে তিনি বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পারেন। তবে বড় পুরস্কারের বিনিময়ে মাতৃভূমির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাননি। তিনি দ্রুত বিষয়টি রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাকে জানিয়ে দেন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে থাকে রুশ গোয়েন্দারা। রাশিয়ার এই পাইলট জানান, তাকেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকত্ব এবং আয়েশি জীবনযাপনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল।
ইউক্রেনের সরকার এবং গোয়েন্দাদের জোরালো বিশ্বাস ছিল যে, এই ধরনের সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখানো হলে রাশিয়ার পাইলটরা সহজেই বিশ্বাসঘাতকতা করে কিয়েভের হাতে বিমান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম তুলে দেবে। তবে ঘটে তার উল্টোটা। নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য তারা ইউক্রেনের অনেক সামরিক তথ্য ওই রুশ পাইলটকে প্রদান করেন। সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে ইউক্রেনে একাধিক অভিযান চালায় রাশিয়া।