রাশিয়ার তেল রপ্তানি বন্ধে নানা রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো। কিন্তু এতে উল্টো ভারত এবং অন্যান্য এশিয়ান দেশে বড় হচ্ছে রাশিয়ার তেলের বাজার। পশ্চিমা চাপের মুখে এশিয়ার দেশগুলো হয়ে উঠেছে দেশটির আয়ের বড় উৎস। ইউক্রেনে আক্রমণের প্রেক্ষিতে ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়া থেকে জ্বালানী আমদানি পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ করেছে। তবে এই একইসময়ে বিকল্প বাজার বড় হয়েছে রাশিয়ার জন্য। তাই পশ্চিমাদের শত চেষ্টার পরেও রাশিয়ার রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফিনল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা ‘সেন্টার ফর রিসার্স অন এনার্জি এন্ড ক্লিন এয়ার’-এর হিসেব অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ১০০ দিনে রাশিয়া জ্বালানী রপ্তানি করে প্রায় ৯৭.৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। মে মাসে তেল রপ্তানিতে কিছুটা ভাটা পড়লেও তা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকেই রাশিয়ার বাজেটের ৪০ শতাংশ আসে। তাই এই অর্থ দিয়েই ইউক্রেনে যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছে মস্কো।
১৪০ কোটি মানুষের দেশ ভারতের তেলের চাহিদা ব্যাপক। দেশটি ২০২২ সালে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করেছে রাশিয়া থেকে। অথচ ২০২১ সালে দেশটি মাত্র ১২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করেছিল রাশিয়া থেকে। ভারতের পাশাপাশি চীনেও বেড়েছে রাশিয়ার তেল রপ্তানি। অন্য এশীয় দেশগুলোও দিন দিন রাশিয়ার তেলের উপরে ঝুঁকছে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীও একই ইঙ্গিত দিয়েছেন। শনিবার প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহে এপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রথমে তিনি বিকল্প উৎস খুঁজবেন। তবে প্রয়োজন পড়লে তিনি মস্কো থেকেও তেল আমদানি করতে চান। গত মে মাসেই শ্রীলঙ্কা রাশিয়া থেকে প্রায় এক লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করেছে।
রাশিয়া নিজেও তার বাজার বড় করার চেষ্টা করছে। সোমবার রুশ রাষ্ট্রদূত মারাত পাভলভ ফিলিপাইনের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোসের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এ সময় তিনি ফিলিপাইনে গ্যাস এবং তেল রপ্তানির বিষয়ে কথা বলেন। তবে দুই পক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছে কিনা জানা যায়নি। আগামি ৩০শে জুন ৬ বছরের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করবেন মার্কোস। এরপর হয়তো জানা যাবে, তিনি রাশিয়ার প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়েছেন কিনা।
ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এতে দ্রুত বৃদ্ধি পায় তেলের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখন ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার। অথচ রাশিয়া থেকে ভারতসহ অন্যান্য দেশ ৮৫ থেকে ৯০ ডলারেই তেল পাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি রাশিয়ার তেল আমদানি দুই তৃতীয়াংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর থেকে এশিয়ার বাজার রাশিয়ার কাছে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুধু চীন ও ভারতই না, তুরস্কও এখন সমানে রাশিয়ার তেল কিনছে।
মে মাসে ৩০টি রুশ ট্যাংকার ক্রুড নিয়ে ভারতে আসে। প্রতিদিন এসব ট্যাংকার থেকে ৪ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল নামানো হয়। চীনও পাল্লা দিয়ে রুশ তেল আমদানি বৃদ্ধি করেছে। ২০২১ সালে চীনই ছিল রুশ তেলের সবথেকে বড় ক্রেতা। দেশটি প্রতিদিন ১৬ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করতো চীন। সে হিসেবে ভারত এখনও চীনের চার ভাগের একভাগ তেল আমদানি করছে রাশিয়া থেকে। তবে দিন দিন সেটি বাড়ছে। এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কি আসলেই কিছু অর্জন করেছে?