মোঃ শাহানুর আলম, ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার (সাধুহাটি-তৈলটুপি) লালন সড়কের পুন:নির্মাণ কাজের দরপত্র সম্পন্ন হয়ে ওয়ার্ক অর্ডারের প্রায় দেড় বছর পার হয়ে গেলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রভাব খাটিয়ে নানা অযুহাতে রাস্তা নির্মাণের কাজ নিয়ে গাফিলতি শুরু করেছে।
এদিকে রাস্তার বেহাল অবস্থায় ফুঁসে উঠছে এলাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গাড়ির চালক, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। তারা রাস্তাটি পুন:নির্মাণের দাবিতে স্মারক লিপি প্রদান, সমাবেশ ও দফায় দফায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে। হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রকৌশল অফিসের মাধ্যমে জানা গেছে দরপত্র আহব্বানের দেড় বছরেও পুন:নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। আদৌ পুন:র্নিমাণ কাজ হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন এলাকাবসী। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কে জমে হাটুপানি প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে খোয়া উঠে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ আর গর্তের। ভোগান্তিতে পড়েছেন গাড়ীর চালক, পথচারি ও শিক্ষার্থীরা।
গত সোমাবার উপজেলার দোয়েল চত্তর মোট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কজুড়ে মানববন্ধন করেছে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ। এতে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে তারা সড়কটির দ্রুত পুন:র্ন্মিাণের দাবি জানান। মানববন্ধনে পৌরসভার মেয়র ফারুক হোসেন সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করেন। সমাবেশে মেয়র বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে টেন্ডার হয়েছে ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়ার পরেও নানা অযুহাতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেননি। সড়কের এই বেহাল দশার কারণে মানুষের ভোগান্তি ক্রমেই বাড়ছে। তিনি কর্তৃপক্ষের নিকট সড়কটির দ্রুত র্ন্মিাণ কাজ সমাপ্ত করার দাবি জানান।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দোয়েল চত্ত্বর মোড় থেকে তৈলটুপি পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ১৬ কিলোমিটার। ২০০০ সালে সর্বশেষ এ সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে এই রাস্তার সাড়ে তিন কিলোমিটার কার্পেটিং সম্পন্ন হয় এবং ২০২১ সালে বাকি সাড়ে বারো কিলোমিটার পুন:র্ন্মিাণের জন্য টেন্ডার হয়। ইপিআইসি কেএপি পিওটি একেএইচআই জেভি নামে ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজটি পায়। এলজিইডির আম্ফান প্রকল্পের আওতায় এই রাস্তাটির পুনঃনির্মাণের ব্যয় ধরা হয় এগারো কোটি তেষট্টি লক্ষ তিতাল্লিশ হাজার নয়শত ছয় টাকা। কাজ আরাম্ভের সর্বশেষ তারিখ ১৭/০৮/২০২১খ্রি: এবং কাজ সমািপ্তর সময় ০২-০১-২০২৩খ্রি: থাকলেও অদ্যবধি কাজ শুরু করার কোন লক্ষন দেখা যায়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ঝিনাইদহ শহরের নাসের আলম সিদ্দিকী উজ্জ্বল কাজটি করবেন বলে জানা গেছে। কিন্তু তিনি প্রভাব খাটিয়ে নানা অযুহাতে কাজটি শুরু করছে না। এবিষয়ে ঠিকাদার উজ্জ্বল বলেন, বর্ষার কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। তবে দ্রুতই কাজটি শুরু করা হবে।
ঝিনাইদহ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মনোয়ার উদ্দিন বলেন, কাজ শুরু করতে আমি ইতোমধ্যে ঠিকাদারী পতিষ্ঠানকে কয়েকটি চিঠি দিয়েছি। তাদের সাথে কথা হয়েছে। আশা করছি দু এক দিনের মধ্যেই এর নির্মাণ কাজ শুরু হবে। তা না হলে টেন্ডার বাতিল করা হবে বলেও তিনি জানান।