চুপিসারে সস্তায় রাশিয়া থেকে তেল কিনছে চীন। দর-কষাকষি করে কম দাম দিয়ে তেল কিনছে চীনা ব্যবসায়ীরা। জাহাজের তথ্য ও তেল ব্যবসায়ীদের বরাতে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক হামলা শুরুর পর বিভিন্ন দেশ রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। এতে রাশিয়ার তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পশ্চিমা ক্রেতারা তেল কেনা বন্ধ বা কমিয়ে দেয়।
সম্প্রতি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বৃদ্ধি করে চীন। যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল আমদানিকারক চীন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। বলা হচ্ছে, যুদ্ধ শুরুর পর মস্কোকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়া ও রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার ভয়ে এ ঘোষণা দেয় বেইজিং।
চলতি মে মাসে রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে রেকর্ড করেছে চীন। এ মাসে প্রতিদিন রাশিয়া থেকে প্রায় ১১ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করেছে দেশটি। অথচ এ বছরের প্রথম তিন মাসে গড়ে প্রতিদিন সাড়ে ৭ লাখ ও গত বছর গড়ে রাশিয়া থেকে ৮ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করেছিল দেশটি।
ব্যবসায়ীরা জানান, ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২৯ ডলার কমে রাশিয়ার তেল পাচ্ছেন ক্রেতারা। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের তেলের চেয়ে যা অনেক কম।
ইন্ট্যারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, রাশিয়া থেকে তেলভর্তি কার্গো জাহাজ চীনে যাওয়া বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে রাশিয়ার মোট রপ্তানির ২৭ শতাংশ তেল কিনেছিল চীন, যার মূল্য ছিল ৩৪ বিলিয়ন ডলার। যদিও এটি চীনের মোট তেল আমদানির মাত্র ১৬ শতাংশ। সরকারি চুক্তি অনুযায়ী, পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল রাশিয়ার তেল পাচ্ছে চীন। মে মাসে গড়ে প্রতিদিন রাশিয়া থেকে ২০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করেছে চীন।
রয়টার্স এর খবরে বলা হয়েছে, এ সময়ে রাশিয়া থেকে তেল কিনছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ তেল পরিশোধনকারী কোম্পানি সিনোপেক করপোরেশনের বাণিজ্যিক শাখা ইউনিপেক ও চীনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কোম্পানি নরিনকোর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ঝেনহুয়া। কোম্পানি দুটি চীনের। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ ছাড়া সম্প্রতি রাশিয়া থেকে চীনে তেলের বড় সরবরাহকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে হংকংয়ে নিবন্ধিত লিভনা শিপিং লিমিটেড।
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত তিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। এর মধ্যে সিনোপেক কথা বলতে চায়নি এবং ঝেনহুয়া ও লিভনা কোনো সাড়া দেয়নি। লিভনার নাম আগে তেমন একটা শোনা যেত না। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি গত এপ্রিলের শেষ দিক থেকে রাশিয়ার ৭০ লাখ ব্যারেল তেল চীনে সরবরাহ করেছে।
মে মাসে এরই মধ্যে ২ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে রাশিয়া। গত এপ্রিলের চেয়েও যা ৬ শতাংশ বেশি।
যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল বিশ্ব অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক হিসেবে তাদের নিষেধাজ্ঞা মেনে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোও রাশিয়া থেকে তেলসহ অন্যান্য জ্বালানি কেনা বন্ধ করবে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, হাঙ্গেরি, নেদারল্যান্ড, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়াসহ ইউরোপের দেশগুলো এখনও রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে। তেল কিনছে এশিয়ার দুই প্রভাবশালী রাষ্ট্র চীন ও ভারত।