ইউক্রেনে সেনা পাঠানোয় রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
তবে এসব নিষেধাজ্ঞায় টলেননি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। উল্টো বাড়িয়েছেন আক্রমণের তীব্রতা। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে ইইউ। ষষ্ঠ দফার এই নিষেধাজ্ঞার প্রধান উদ্দেশ্য রাশিয়ার তেল রফতানি ব্যাহত করা। পাশাপাশি রাশিয়ার প্রধান ব্যাংক ছেবার ব্যাংকসহ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কয়েকটি গণমাধ্যম এবং দেশটির শীর্ষ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকেও আনা হবে এবারের নিষেধাজ্ঞার আওতায়।
তবে মজার ব্যাপার হলো রাশিয়ার গ্যাস খাতকে এবারও বাদ রাখা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা থেকে। ইউরোপের গ্যাস সরবরাহের সিংহভাগই নির্ভর করে রাশিয়ার ওপর। ফলে এই মুহূর্তে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলে এর প্রতিক্রিয়া আঁচ করতে পেরেই আপাতত রাশিয়ার গ্যাস খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা মুখে আনছে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ফিনল্যান্ডের ৬৭ শতাংশ, এস্তোনিয়ার ৪৬ শতাংশ, লাটভিয়ার ১০০ শতাংশ, লিথুয়ানিয়ার ৪১ শতাংশ, পোল্যান্ডের ৫৪ শতাংশ, চেক রিপাবলিকের ১০০ শতাংশ, স্লোভাকিয়ার ৮৫ শতাংশ, হাংগেরির ৯৫ শতাংশ, রোমানিয়ার ৪৪ শতাংশ, জার্মানির ৬৬ শতাংশ, বুলগেরিয়ার ৭৫ শতাংশ, ইতালির ৪৩ শতাংশ, গ্রিসের ৩৮ শতাংশ এবং নেদারল্যান্ডসের ২৬ শতাংশ গ্যাস আমদানি রাশিয়ার সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।
এদিকে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর অবরোধ নিয়ে বিভক্তি দেখা দিয়েছে খোদ ইইউ’র মধ্যেই। রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে ইইউ সদস্য হাংগেরি ও স্লোভাকিয়া। রাশিয়ার জ্বালানির বিকল্প আপাতত তাদের হাতে নেই বলে উল্লেখ করেছে উভয় রাষ্ট্রই।
নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব পাস হতে সংস্থার ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের অনুমোদন লাগবে। তবে বিশেষ বিবেচনায় হাংগেরি কিংবা স্লোভাকিয়াকে সাময়িক সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে ইইউ সূত্র।
তবে রাশিয়ার ওপর নতুন এই অবরোধের পরিকল্পনার খবরে অস্থির হয়ে পড়েছে বিশ্বের তেলের বাজার। আগের দিনের থেকে তেলের দাম ৩ শতাংশ বেড়ে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছে ১০৯ ডলারে।