জাতিসংঘের পর্যটন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন (ইউএনডব্লিউটিও) থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। ইতোমধ্যে সংস্থাটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। বুধবার (২৭ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির এক মুখপাত্র।
উক্রেনে সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়াকে বহিষ্কার করার ঘোষণা দিয়েছে ইউএনডিব্লিউটিও। বুধবার এ নিয়ে ভোটাভুটির হওয়ার কথা রয়েছে। তবে রাশিয়ার সদস্য পদ বাতিলের জন্য ১৫৯ সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন।
মাদ্রিদ ভিত্তিক সংস্থা ইউএনডব্লিউটি‘র মহাসচিব জুরাব পোলোলিকাশভিলি আগেই জানিয়েছিলেন, তার প্রত্যাশা রাশিয়াকে বহিষ্কার করার বিষয়ে সংস্থাটির সদস্যরা ভোটাভুটিতে যাবে। কোনো দেশের সদস্যপদ বাতিলে এবারই প্রথম ভোটাভুটি হতে যাচ্ছে।
ইউএনডব্লিউটিওর মহাসচিব আরও বলেন, সদস্যরা রাশিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করার পক্ষে ভোট দেবেন বলে তিনি আশা করছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, ভোটাভুটি সামনে করে সংস্থাটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। বুধবার এক টুইটার বার্তায় বিষয় করে ইউএনডব্লিউটি। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেন, যদিও রাশিয়া প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। তবুও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। কারণ স্থগিতাদেশের তাৎক্ষণিক প্রভাব রয়েছে।
রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযানের নিন্দা জানিয়ে চলতি মাসের শুরুর দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি ভোটাভুটি হয়। সাধারণ পরিষদে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তাবনা পাস হয়। ভারত, চীনসহ ৫৮টি দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকেও রাশিয়াকে স্থগিত করা হয়েছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। যুদ্ধ থামাতে এই মুহূর্তে রাশিয়া ও ইউক্রেনে সফরে আছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস। এ সফরে যুদ্ধের কুপ্রভাব সম্পর্কে কিছু শকওয়েভের কথা জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, যুদ্ধের ফলে খাদ্য এবং শক্তির ব্যয়ের একটি ’নাটকীয় ত্বরণ’ উপস্থিত হয়েছে, যা বিশ্বের লাখ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করছে।
গুতেরেস বলেন, মহামারির মধ্যে এই যুদ্ধের ধাক্কা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে শেষ করে দিচ্ছে। যত তাড়াতাড়ি শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, ততই ইউক্রেন, রাশিয়া এবং বিশ্বের জন্য মঙ্গল। যুদ্ধের সমাপ্তি এই সময়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
জাতিসংঘ মহাসচিব এমন একটি বিশ্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যা জাতিসংঘের সনদ এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলবে এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পূর্ণ সমতা বিরাজ করবে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সাধারণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া খুবই দরকার। যারা যুদ্ধ করছে, তারা মূলত এই গ্রহকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে থাকবেন, যেখানে তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবার সাথে বৈঠক করবেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন।