‘ভারতের সাথে আমেরিকার অংশীদারিত্ব হবে আরও ফলপ্রসূ এবং গুরুত্বপূর্ণ।’ ওয়াশিংটনের স্টেট ডিপার্টমেন্টে ভারত-মার্কিন টু প্লাস টু মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে ব্লিঙ্কেন এই মন্তব্য করেছেন। সেই সঙ্গে এই বৈঠককে তিনি একটি বড় মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছেন। টু প্লাস টু বৈঠকের পরেই যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন বিদেশ সচিব অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন জানান, ‘আমেরিকা তার মিত্র দেশগুলিকে অনুরোধ জানিয়েছে যেন রাশিয়া থেকে কোনও রকম জ্বালানি কেনা না হয়। ভারতকেও অতিরিক্ত রাশিয়ান তেল না কেনার আহ্বান জানানো হয়েছে। আমরা জানি প্রতিটি দেশের নিজস্ব প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা মিত্র এবং অংশীদারদের রাশিয়া থেকে কোনও রকম জ্বালানি না কেনার আহ্বান জানাচ্ছি।” সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই মুখ খুলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর।
তিনি জানিয়েছেন, ভারতকে সতর্ক করার আগে আমেরিকার উচিত ইউরোপের মার্কিন ঘনিষ্ঠ দেশগুলির দিকে নজর দেওয়া। তিনি জানান, “ভারত একমাসে রাশিয়া থেকে যে পরিমাণ তেল আমদানি করে, ইউরোপের দেশগুলি এক দুপুরে তার থেকে বেশি পরিমাণ তেল কেনে রাশিয়ার থেকে।” এরপরে তিনি বলেন, “যদি রাশিয়া থেকে তেল আমদানির পরিসংখ্যান দেখা যায়, তাহলে আমি বলব আমেরিকার নজর ভারতের দিকে নয় ইউরোপের দিকে থাকা উচিত।” বাইডেন প্রশাসন ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে রাশিয়া থেকে ভারত তেল কিনুক আমেরিকা তা চায় না। ইউক্রেন আক্রমণ করার পর ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ভারত কমপক্ষে ১৩ মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ান ক্রুড অয়েল কিনেছে।
রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল কেনা নিয়ে প্রথম থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে আমেরিকা।
এমনকী নিজেদের প্রতিনিধি পাঠিয়েও ভারতের বিরুদ্ধে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। সোমবারের ভার্চুয়াল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর এবং ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। আলোচনাটি ঠিক এমন সময়ে সংঘটিত হয়েছে যখন নয়াদিল্লি মস্কো এবং পশ্চিমের সাথে তার ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জয়শঙ্কর মার্কিন প্রতিনিধিদের জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে ভারত জাতিসংঘে, ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বিবৃতি দিয়েছে এবং নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
‘প্রেসিডেন্ট বাইডেন কি প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছ থেকে রাশিয়ান জ্বালানি না কেনার কোনো প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন?” হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকিকে তার দৈনিক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। উত্তরে সাকি বলেন, ‘ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০ শতাংশ তেল আমদানি করে। তবে এদিনের বৈঠকে কোনো নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন বা সেই লাইনে কিছু আলোচনা হয়নি। এটি একটি গঠনমূলক, সরাসরি আলাপচারিতা ছিল। ”
সূত্র: www.indiatoday.in