দক্ষিণ কোরিয়ায় দুটি বিমানের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (০১ এপ্রিল) দুপুরে প্রশিক্ষণ চলাকালে দেশটির বিমানবাহিনীর দুইটি বিমানের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ৪ পাইলট নিহত হয়েছেন।
খবরে বলা হয়েছে, এদিন কেটি-১ নামের দুই আসনের দুটি বিমান প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। দক্ষিণ কোরিয়ার বিমানবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটে দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় সাচিয়ন শহরের সাচিয়ন বিমানঘাঁটি থেকে ৬ কিলোমিটার দক্ষিণে দুই বিমানের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এরপর ওই অঞ্চলের একটি পাহাড়ের ওপর বিধ্বস্ত হয়। রাজধানী সিউল থেকে সাচিয়ন শহরটি ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
রয়টার্স জানিয়েছে, মূলত একটি কৃষিপ্রধান এলাকায় বিমান দুটি বিধ্বস্ত হয়েছে। ইয়োনহ্যাপ যে সব ছবি প্রকাশ করেছে সেগুলোতে একটি পর্বত থেকে ধোঁয়া উড়তে ও একটি খামার বাড়ির সামনে বিমানের টুকরার আঘাতে ভেঙেচুরে যাওয়া একটি গাড়ি দেখা গেছে।
স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা ইয়োনহ্যাপ জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়া বিমান ও পাইলটদের খোঁজে ১৩০ জন সেনা, ৯৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা, ৬০ জন দমকল কর্মীর পাশাপাশি তিনটি হেলিকপ্টার তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।
এক বিবৃতিতে বিমানবাহিনী বলেছে, জরুরিভিত্তিতে বিমান ছাড়ার চেষ্টা সত্ত্বেও দুই বিমানের দুই প্রশিক্ষণার্থী পাইলট ও দুই ফ্লাইট ইন্সট্রাক্টর মারা গেছেন।
এ ঘটনার বেসামরিক কারও মৃত্যু হয়নি এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ও বিমান দুটি যে এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে সেই এলাকার বাসিন্দাদের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে একটি টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিধ্বস্ত হওয়া বিমানগুলো মূলত এক ইঞ্জিনের কেটি-১ বিমান। হাল্কা এসব যুদ্ধবিমান দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা উন্নয়ন সংস্থা ও তাদের ঠিকাদার কোরিয়ান অ্য়ারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ মিলে যৌথভাবে তৈরি করে। এর আগে জানুয়ারি মাসে দেশটির একটি এফ-৫ যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে এক পাইলটের মৃত্যু হয়।