রকিবুল ইসলাম রুবেল,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় সহকারি শিক্ষক শাহিন তার ভাই সজিব ও জুয়েলের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আর এ ঘটনায় গত বুধবার (২৮ জুলাই) উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের স্থানীয়রা পোষ্ট অফিসের (ডাক যোগাযোগ) মাধ্যমে ওই তিনজনের নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ ও গণ পিটিশন দিয়েছেন।
দপ্তর গুলো হলো, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি), জেলা পুলিশ সুপার (এসপি), জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, হাতীবান্ধা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, ও ভেলাগুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান।
আব্দুস সাত্তার শাহিন উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের মধ্যম কাদমা এলাকার মৃত শাহাজান চাকলাদারের ছেলে ও মাস্টার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। শাহিনের ভাই সজিব এবং মৃত আঃ রহিমের ছেলে জুয়েল।
স্থানীয়দের স্বাক্ষর করা গনপিটিশনে উল্লেখ রয়েছে, সহকারী শিক্ষক শাহিন, তার ভাই সজিব ও জুয়েল এলাকায় সকল ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত। এছাড়া তারা ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন নেশার সাথে জড়িত। ওই তিনজনের কারনে এলাকার উঠতি বয়সের ছেলেরা নষ্ট হওয়ার পথে। এমনকি নিজেরদের পরিবারের লোকজনদেরও জমি দখল করে। তাদের কারনে এলাকার সকল বয়সের মানুষ ভয়ে থাকেন।
এ বিষয়ে গনপিটিশনে স্বাক্ষকরকারী স্থানীয় হাফিজুর রহমান বলেন, ওই তিন জনের উপর অতিষ্ট এলাকাবাসী। শিক্ষক হয়ে সব সময় নেশা ডুবে থাকে। এমনকি তরুন যুবকদের নেশায় আসক্ত করে জীবন নষ্ট করে দিচ্ছে। আমরা এর বিচারের দাবীতে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অবিযোগ দিয়েছি।
গনপিটিশনে স্বাক্ষকরকারী অপর একজন স্থানীয় মনোয়ারা খাতুন বলেন, একজন শিক্ষকের কাছে আমাদের সন্তানরা শিক্ষা পাবে সু-পথে চলবে৷ কিন্ত এই শিক্ষক তো তরুনদের জীবন নষ্ট করে দিচ্ছে। এছাড়া এলাকাবাসী ওই শিক্ষকসহ সজিব, জুয়েলের উপর অতিষ্ট।
এ বিষয়ে মাস্টার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুস সাত্তার শাহিন বলেন, আমি নেশা করি না। ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলবো।
এ বিষয়ে মাস্টার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খগেশ্বর বলেন, লোক মুখে শুনেছি। তবে নিজের চোখে দেখি নাই।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত) জাকির হোসাইন সরকার বলেন, অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, এ সংক্রান কোন অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, এরকম কোন অভিযোগ এখনো পাইনি, অভিযোগটি পেলে তদন্ত করে আমাদের যেটা করনীয় সেটাই করবো।