শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১১:২৩ অপরাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

কুড়িগ্রামে বালু উত্তোলনে বাধাদিতে গিয়ে নিযার্তনের শিকার প্রধান শিক্ষক

হাফিজ সেলিম, কুড়্রিগ্রাম
Update : রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:৪০ অপরাহ্ন

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলায় জাহের আলী মন্ডল নামের একজন স্কুল শিক্ষক স্কুল ভবনের কাছ থেকে অবৈধ ভাবে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে নিযার্তনের শিকার হয়েছেন। বালু উত্তোলনে বাধা দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে বালু খেকো আব্দুর রশীদসহ তার সহযোগীরা ওই শিক্ষকের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেছে ।
 এসময় শিক্ষকের স্বজনরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসলে তাদের ওপরও হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে তারা। বর্তমানে আহতরা  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে বালু খেকো  আব্দুর রশীদ শিক্ষক ও তার স্বজনদের  উপর হামলা চালিয়ে আহত করার পর  উল্টো স্কুল শিক্ষকসহ তার স্বজনদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাজীবপুর প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে  নিযার্তিত স্কুল শিক্ষক জাহের আলী মন্ডল তার উপর চালানো অমানুষিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন এবং মিথ্যা মামলা সাজিয়ে উল্টো তাকে ও তার স্বজনদের পুলিশী হয়রানির ফাঁদ পেতেছেন বলে অভিযোগ উত্থাপন করেন।
 পাশ্ববর্তি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার উত্তর জোয়ানেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহের আলী মন্ডলের লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, রাজীবপুর উপজেলার করাতিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশীদ এলাকার চিহ্নিত একজন বালু ব্যবসায়ি। উত্তর জোয়ানেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের কাছ থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে  অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছিল সে । বালু তোলার কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবনটি হুমকির মুখে পড়ে। নদীতে ধসে যাওয়ার আশংকা থাকায় স্কুলের শিক্ষকরা অবৈধ ওই বালু উত্তোলনে বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই বালু ব্যবসায়ি তার দলবল নিয়ে শিক্ষকের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে শিক্ষকের স্বজনরা এগিয়ে আসলে তাদেরও রক্তাক্ত জখম করা হয় । গত ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধায় হামলার এ ঘটনা এটি।
নিযার্তিত স্কুল শিক্ষক বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের কাছে যে ভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলা হয়েছে তাতে বষার্র সময় ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিবে। তখন আর স্কুল ভবনটি রক্ষা করা যাবে না। এ কারনে বালু তোলা নিষেধ করেছি। আমার অপরাধ আমি বালু তোলা নিষেধ করলাম কেন? এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই বালু খেকো ও তার দলবল আমার ওপর ও আমার স্বজনদের ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। শুধু তাই নয় উল্টা আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলাও করেছে। এছাড়াও আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার বাদশা মিয়া বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না করলে শুধু যে ওই স্কুল ঘরই নদী গর্ভে বিলীন হবে তা কিন্তু নয়। স্কুলের সঙ্গে উত্তর জোয়ানেরচর ও করাতিপাড়া দুটি গ্রাম ভাঙ্গনের মুখে পড়বে। এতে একহাজার পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারাবে-এমন আশংকা করছে গ্রামবাসি। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে অন্যায় ভাবে মারপিট করেছে। আবার তার বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বালু খেকো আব্দুর রশীদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আমি ড্রেজার মেশিন বসিয়েছি নদীতে ওই স্কুল শিক্ষক তাতে বাধা দিবে কেন। এটা জানতে চাইলে তারাই আমার ওপর হামলা করছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা  অমিত চক্রবর্তী  জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি। বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এবং সেখান থেকে ড্রেজার মেশিন তুলে নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। #


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host