রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ নির্বাচনে কে হচ্ছেন আ’লীগের প্রার্থী !

মোঃ শাহানুর আলম, স্টাফ রিপোর্টার
Update : শনিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২২, ৬:০৩ অপরাহ্ন

মোঃ শাহানুর আলম, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ জেলা পরিষদের নির্বাচন আগামী ১৭অক্টোবর। জেলা পরিষদ আইন সংশোধন করে এখন এক জন চেয়ারম্যান, প্রতি ্উপজেলায় ১জন জন সাধারণ সদস্য ও মোট ২জন সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচিত হবেন। আগামী ১৭ অক্টোবর দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে এক সাথে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে জানা গেছে।
সারাদেশের ন্যায় ঝিনাইদহে জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নেতাদের মাঝে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে নেতারা অনেকেই প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ি আগামী ১৭অক্টোবর জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর। নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন জেলা প্রশাসক আর তার সহকারী হিসেবে থাকবেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাগণ।
দেশে প্রথম জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর। এই নির্বাচনে জেলার ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভোট দেবেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার ছাড়াও প্রার্থীদের নিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে চলছে আলোচনা সমালোচনা।


শহর, পাড়ায়-মহল্লায় ও চায়ের দোকান গুলোতে এখন একটাই আলোচনা কে হচ্ছেন ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবার কে-ই বা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন।
আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থী হতে চুড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। তবে, বিএনপি বা অন্যকোনো দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগ্রহ এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি।
নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আ’লীগের যেসমস্ত নেতাদের নাম সামনে এসেছে। তাদের কর্মী সমর্থকরা নিজ নিজ পছন্দের নেতাকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় বলে ফেইসবুক বা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন।
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের ক্ষমতাসীন আ’লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন-বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কনক কান্তি দাস। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা, ক্লিন ইমেজের অধিকারী ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে কনক কান্তি দাসকে আবার মনোনয়ন দেবেন বলেন দলের অনেকেই ধারণা করছেন।
এছাড়া আরও যারা আছেন তারা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ আজিজুর রহমান, শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ঝিনাইদহ সরকারী কে.সি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক বীব মুক্তিযুদ্ধা অধ্যাপক আবেদ আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, সাবেক ছাত্রনেতা ও সাংবাদিক তৈয়ব আলী জোর্য়াদ্দার, জেলায় আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও অবদান রেখে চলেছেন ও একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সৃজনী ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক, বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ডঃ এম, হারুন অর রশীদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি, সাবেক ছাত্রনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মকবুল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা অশোক ধর এবং জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও ঝিনাইদহ জজ কোটের পিপি এ্যাড.ইসমাইল হোসেনের নামও রয়েছে আলোচনার শীর্ষে। এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহামুদুল ইসলাম ফোটনের নাম শোনা যাচ্ছে।

ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল হাই এমপি ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সাইদুল করিম মিন্টু বলেন, জেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ঝিনাইদহ জেলা থেকে দলীয় সমর্থনের জন্য সর্বোচ্চ তিনজন প্রার্থীর নাম পাঠানোর নির্দেশ রয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে সমর্থন দেবেন তিনিই দলের প্রার্থী হিসাবে বিবেচিত হবেন। আগামী ১২ অক্টোবর এর মধ্যে ঢাকায় তালিকা পাঠানোর সম্ভবনা রয়েছে ।
বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাস অগ্রাধিকার পাবেন এমন কোনো সিদ্ধান্ত আছে কিনা জানতে চাইলে তিনারা বলেন, না এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের জানা নেই।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশী এ্যাড.আজিজুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু এবারও জেলা পরিষদ নির্বাচন দলীয় সমর্থনে হবে, সেহেতু দলীয় সমর্থন পাওয়ার ওপরই নির্ভর করছে নির্বাচন করা না করা। ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর এর জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও একটি বিশেষ কোটার জন্য বাতিল হয়ে যায়। দল যদি তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে মনোনয়ন দেয় তাহলে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে এবার তিনি শতভাগ আশাবাদী।’
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তৈয়ব আলী জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দলের নীতি আদর্শ মেনে দলের জন্য কাজ করছি। আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি একজন প্রার্থী। সেজন্য অনেক আগে থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। এ জেলার সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি তৃনমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও চাইছেন যেন আমি নির্বাচন করি।
এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, জেলা আইনজীবী সমিতির বার বার নির্বাচিত সভাপতি ও ঝিনাইদহ জজ কোটের পিপি এ্যাড.ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দলের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি সবদিক বিবেচনা করে দলীয় প্রধান আমাকেই সমর্থন দেবে।’
নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষনার সাথে সাথে দলীয় সমর্থন পেতে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা লবিং করতে জেলা ও কেন্দ্রে দৌড় ঝাপ শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ নেতারা, নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে দলের জন্য যারা সব সময় কাজ করেছেন, নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকায় মানুষের পাশে ছিলেন, এমন প্রার্থীকে খুঁজেই দলীয় মনোনয়ন দেবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এমনটিই আশা করেন তারা। তবে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক তার পক্ষে সবাই কাজ করবেন বলে জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host