শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১১ অপরাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: [email protected]

উজ্জ্বল নক্ষত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী আব্দুল জব্বারের ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকী আজ

রেজাউল হক, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি
Update : সোমবার, ৩০ আগস্ট, ২০২১, ৬:১৬ অপরাহ্ন

রেজাউল হক নড়াইল জেলা প্রতিনিধিঃ ” তারা ভরা রাতে, তোমার কথা যে মনে পড়ে বেদনায়”
আব্দুল জব্বার একটি নাম একটি ইতিহাস একটি প্রেরনা। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে প্রচারিত ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’সহ অনেক উদ্বুদ্ধকরণ গানের কন্ঠদাতা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি ও সন্মান লাভ করেন। তার গাওয়া ‘তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়’ ‘সালাম সালাম হাজার সালাম ও ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গান তিনটি ২০০৬ সালে মার্চ মাস জুড়ে অনুষ্ঠিত বিবিসি বাংলার শ্রোতাদের বিচারে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানের তালিকায় স্থান করে নেয়। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত দুটি সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক (১৯৮০) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে (১৯৯৬) ভূষিত হন। আব্দুল জব্বার ১৯৩৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৪ সালে জহির রায়হান পরিচালিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গিন চলচ্চিত্র ‘সংগম’ এ নেপথ্য কণ্ঠ দান করেন তিনি ১৯৭০ সালে রবীন ঘোষের সুরে তিনি ‘পিচ ঢালা পথ’ ছবিতে ‘পিচ ঢালা এই পথটারে ভাল বেসেছি’। ১৯৭৮ সালে ‘সারেং বৌ’ চলচ্চিত্রে আলম খানের সুরে তার গাওয়া ‘ওরে নীল দরিয়া’ গানটি দর্শকপ্রিয়তা পায়।১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ও প্রেরণা যোগাতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ‘সালাম সালাম হাজার সালাম ও ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’সহ অংসখ্য গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। তার গানে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া যুুদ্ধের সময়কালে তিনি কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরিতে কাজ করেন। সেসময় কলকাতায় অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে ঘুরে ঘুরে হারমোনিয়ম বাজিয়ে গণসঙ্গীত পরিবেশন করেছেন যা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা যুগিয়েছে।
 তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ তহবিলে সেসময় গণসঙ্গীত গেয়ে প্রাপ্ত ১২ লাখ রুপি দান করেছিলেন। আব্দুল জব্বারের স্ত্রী গীতিকার শাহীন জব্বার যার গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আব্দুল জব্বার, সুবীর নন্দী, ফাতেমা তুজ জোহরার মত জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীরা। তাদের সন্তান মিথুন জব্বারও একজন সঙ্গীতশিল্পী।  ৩০ আগস্ট ২০১৭ সালে সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চিরদিনের মতো নিভে যায় এদেশের সঙ্গীত আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র শিল্পী আব্দুল জব্বার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host