সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১০:১৫ অপরাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

লকডাউনে পিরোজপুরে অনেক দরিদ্র ভিক্ষুকের অনাহারে দিন কাটাছে

Reporter Name
Update : সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১, ১২:৩৮ অপরাহ্ন

পিরোজপুর প্রতিনিধি : পিরোজপুরে করোনা মহামারির ফলে দির্ঘদিন লকডাউনের কারনে দোকানপাট বন্ধ ছিলো তাই ভিক্ষা না পেয়ে অসহায় জীবন যাপন করছেন ভিক্ষুক সাহেব আলী। সাহেব আলীর বাড়ি সদর উপজেলার খুমুরিয়া এলাকায়। তিনি দির্ঘ ৩৫ বছরের বেশি সময় পিরোজপুর শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভিক্ষা করে জীবন চালিয়ে আসছেন। কিন্ত বর্তমানে করোনা মামারির কারনে লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ থাকার ফলে তিনি না খেয়ে কোন ভাবে বেঁচে আছেন। সাহেব আলী একজন পঙ্গু মানুষ তিনি দুই পায়ে চলতে পারেন না তাই একটি ভাঙ্গা হুইলচেয়ারে ভর করে তাকে চলতে হয়। করোনার কারনে সবাই লকডাউন মেনে ঘরে থাকলেও ক্ষুধার যন্ত্রনায় রাস্তায় নেমে আসতে হয় সাহেব আলীকে কিন্ত দোকানপাট বন্ধ থাকার ফলে রাস্তায়ও মিলছে না তেমন সাহায্য তাই খালি হাতেই ফিরে যেতে হয় তাকে এমনটাই বলছিন পঙ্গু ভিক্ষুক সাহেব আলী।

পঙ্গু ভিক্ষুক সাহেব আলী জানান, লকডাউনে সবকিছু বন্ধ ছিলো তাই কেউ তেমন সাহায্য দেয়নি ফলে অনেক কষ্ট কওে খেয়ে না খেয়ে কোনমতে বেঁচে আছি। কেউ কোন খোজ খবর নেয়নি দেয় কোন কোন ত্রানও। আল্লার দিন কোন ভঅবে চলে যাচ্ছে। একটি হুইল চেয়ার ছাড়া আমার আর কিছু নাই। একজনের বাড়িতে একটি কুড়ে ঘরে কোনমতে থাকতেছি। আমার স্ত্রী বেশ কয়েক বছর আগে মারা গেছে তিনকুলে আমার কেউ নাই। অভাবের কারনে জীবন যেনো আর চলে না। লকডাউনের কারনে কখনো খেয়ে আবার কখনো শুধু পানি খেয়ে সময় পার করছি দেখার কেউ নাই।

শুধু সাহেব আলী নয় খুমুরিয়া এলাকর প্রতিবন্ধি ইউসুফ, বেকুটিয়া এলাকার আ: রহিম সহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় এমন অনেক ভিক্ষুক ও অসহায় মানুষ রয়েছেন যারা লকডাউনে দু’বেলা খেতে পর্যন্ত পারেন না। এসব মানুষদেও হাহাকার যেনো ইট পাথরের দেয়াল ভেদ করে প্রশাসন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও উচ্চবৃত্তদের কাছে পৌঁছাতে পারেনা। এসকল প্রতিবন্ধি, ভিক্ষুক, অসহায় মানুষদের একটাই দাবী দুবেলা একটু খাবার আর একটু মাথা গোজার জায়গা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘর অনেকেই পেলেও এসব অসহায় মানুষদেও কেউ পাননি প্রধানমন্ত্রী উপহারের ঘর। পিরোজপুর জেলাতে প্রথম ধাপে ১হাজার ১শত ৭৫টি এবং দ্বিতীয় ধাপে ২ হাজার ৪ টি ঘর দেয়া হয়েছে। এদেও মধ্যে সদর উপজেলায় প্রথম ধাপে ৮৫টি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৩০০ টি ঘর দেয়া হয়েছে। প্রথম ধাপের ঘর সকলকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে এবং দ্বিতীয় ধাপের ৪০শতাংশ ঘর দেয়া হয়েছে। এরপরেও অনেক অসহায় দরিদ্র ভিক্ষুক পায়নি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর। ফলে তারা কোন মতে কুঁড়েঘরে বসবাস করে যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আবু আলী মো: সাজ্জাদ হোসেন জানান, করোনা মহামারীর কারনে পরিবহন শ্রমিক সহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার প্রায় ৪০হাজার শ্রমিককে ২হাজার ৫শত টাকা কওে দেয়া হবে। এছাড়াও সরকারের পক্ষ থেকে জেলায় ৫০হাজার ৮ শত ৫০জনকে ঈদ উপহার হিসেবে বিশিষ ভিজিএফ ৪৫০টাকা করে দেয়া হবে। এরপরেও যারা অসহায় দরিদ্র মানুষ রয়েছেন তাদেরকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host