মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:২৬ অপরাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

বৃহস্পতিবার থেকে সাতদিনের জন্য কঠোর লকডাউন

Reporter Name
Update : রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১, ৭:৪০ পূর্বাহ্ন

ডেস্ক নিউজ:  সংক্রমণ বাড়ায় সারা দেশে কঠোর লকডাউন পালনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে সাতদিনের জন্য এ লকডাউন শুরু হচ্ছে। শনিবার রাতে এক বৈঠক শেষে এ তথ্য জানানো হয়। লকডাউন বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার জানান, সোমবার থেকে সীমিত পরিসরে লকডাউন শুরু হবে। বৃহস্পতিবার থেকে সাত দিনের জন্য সর্বাত্মক লকডাউনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ সারাংশ আকারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রজ্ঞাপন জারি হবে। সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পরই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হবে কিনা তা জানা যাবে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিনে সংক্রমণ হার প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে শাটডাউন বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। এ সুপারিশের আলোকেই লকডাউন বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া লকডাউনে জরুরি সেবা ছাড়া সকল প্রকার অফিস-আদালত বন্ধ থাকছে। বন্ধ থাকবে গণপরিবহনও। রেস্টুরেন্ট ও শপিং মল বন্ধ থাকবে। তবে সীমিত সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান চালু থাকবে। জুন ক্লোজিং আসন্ন হওয়ায় সীমিত পরিসরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। জরুরি কাজ ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে পারবে না। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হবে। এদিকে লকডাউনেও গার্মেন্টস খোলা রাখার বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বিজিএমইএ নেতারা। বিজিএমইএ’র একটি সূত্র জানিয়েছে, গার্মেন্টসগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা আশাব্যঞ্জক। তাই সরকারের কাছে তারা গার্মেন্টসের উৎপাদন চালু রাখার বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছেন। সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক।

এর আগে সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় গত ২১শে জুন ঢাকার পার্শ্ববর্তী ৭ জেলায় লকডাউন শুরু হয়। ওইদিন থেকে ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের সড়ক, নৌ ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ৩০শে জুন পর্যন্ত এ লকডাউন চলবে। অন্যদিকে গত ১৪ই এপ্রিল থেকে সারা দেশে জনসাধারণের চলাচলের ওপর জারি হওয়া বিধিনিষেধ আগামী ১৫ই জুলাই পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে। এই বিধিনিষেধের আওতায় সীমিত পরিসরে রেস্টুরেন্ট ও গণপরিবহন চালু ছিল। কিন্তু সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় নতুন করে শাটডাউন বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। কারিগরি কমিটি বলছে, কোভিড রোগের বিশেষ ডেল্টা প্রজাতির সামাজিক সংক্রমণ চিহ্নিত হয়েছে ও দেশে ইতিমধ্যেই রোগের প্রকোপ অনেক বেড়েছে। এ প্রজাতির জীবাণুর সংক্রমণ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে সারা দেশেই উচ্চ সংক্রমণ, পঞ্চাশোর্ধ জেলায় অতি উচ্চ সংক্রমণ লক্ষ্য করা যায়। রোগ প্রতিরোধের জন্য খণ্ড খণ্ডভাবে গৃহীত কর্মসূচির উপযোগিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অন্যান্য দেশ, বিশেষত পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের অভিজ্ঞতা কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া এর বিস্তৃতি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। তাদের মতামত অনুযায়ী যে সব স্থানে পূর্ণ ‘শাটডাউন’ প্রয়োগ করা হয়েছে সেখানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ও জনগণের জীবনের ক্ষতি প্রতিরোধ করার জন্য কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে সারা দেশে কমপক্ষে ১৪ দিন সম্পূর্ণ ‘শাটডাউন’ দেয়ার সুপারিশ করছে। জরুরি সেবা ছাড়া যানবাহন, অফিস-আদালতসহ সবকিছু বন্ধ রাখা প্রয়োজন। এ ব্যবস্থা কঠোরভাবে পালন করতে না পারলে আমাদের যত প্রস্তুতিই থাকুক না কেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অপ্রতুল হয়ে পড়বে। সরকার লকডাউনের উপর নির্ভরশীল হতে চায় না কিন্তু বাধ্য হয়ে দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। শনিবার বিকালে মানিকগঞ্জের গড়পাড়ায় তার বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী লকডাউন নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যদি আপনার হাতে ভ্যাকসিন না থাকে তাহলে লকডাউনই করোনা সংক্রমণ রোধে একমাত্র কার্যকরী পন্থা। বিশ্বের সকলেই লকডাউন দিয়ে করোনাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host