বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নতুন সূচিতে আজ অফিস খুলছে সুন্দরবনে হরিণের মাংস রেখে পালালো শিকারিরা আজ চিরায়ত লোক উৎসব জামাই ষষ্ঠী লালমনিরহাটে সদ্য অব্যাহতি প্রাপ্ত ছাত্রলীগ সভাপতি বিলাশ কে গ্রেফতারে দাবিতে বুড়িমারী -লালমনিরহাট মহাসড়কে মানববন্ধন লংগদুতে নব-নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যানদের শপথ গ্রহন আদিতমারী উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা শৈলকুপায় মোস্তাককে গ্রেপ্তার কেন্দ্র করে থানা ঘেরাও ৫ পুলিশ সদস্যসহ আহত ২৫ ঝিনাইদহে ৩ দিন ব্যাপী কৃষি মেলার উদ্বোধন পিরোজপুরে ট্রাফিক সচেতনতা মূলক কর্মসূচি ও স্পীডগান পদ্ধতির উদ্বোধন ঢাকা বরিশাল মহাসড়কে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অবরুদ্ধ
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

ফরিদপুরে গাছে গাছে ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে কদম ফুল 

সনতচক্রবর্ত্তী, ফরিদপুর
Update : মঙ্গলবার, ৩১ মে, ২০২২, ১:৪২ অপরাহ্ন

সনতচক্রবর্ত্তী: ফরিদপুরে জ্যৈষ্ঠের তাপদাহে দেখা মিললো আষাঢ়ের ঘণ বর্ষায় ফোঁটা কদমের। জেলার  বিভিন্ন এলাকায় এখন গাছে গাছে ছেয়ে গেছে বর্ষার এ ফুলে। প্রকৃতির নিয়মে  বর্ষার স্মারক বহন করছে  কদম ফুল। কদমের শুভ্ররাগে হৃদয় রাঙিয়ে নেয়ার সুযোগ সবাই পাচ্ছে।  তাইতো বর্ষায় গাছে গাছে ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে কদম ফুল।
শুধু শহর নয় গ্রামেও কদম ফুল সৌরভ ছড়াচ্ছে। চোখ জুড়ানো ঘন সবুজ পাতার মধ্যে সাদা-হলুদ মঞ্জুরি ফুলের চিরচেনা কদম গাছ এখন চোখে পড়ে জেলার বিভিন্ন জায়গায়। বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান, আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান/মেঘের ছায়ায় অন্ধকারে রেখেছি ঢেকে তারে এই-যে আমার সুরের ক্ষেতের প্রথম সোনার ধান আজ এনে দিলে, হয়তো দিবে না ক্লান্ত রিক্ত হবে যে তোমার ফুলের ডাল। এ গান আমার শ্রাবণে শ্রাবণে তব বিস্মৃতি স্রোতের লাবনে ফিরিয়া ফিরিয়া আসিবে তরণী বহি তব সম্মান কবিগুরুর বিখ্যাত এই গানের শুভ্র কদম ফুল এখন আর রাঙাতে পারে না মানুষের মন।প্রাণ সখিরে ঐ শোন কদম্বতলে বংশী বাজায় কে?’- এরকম চমৎকার এবং জনপ্রিয় গানের সাথে জড়িয়ে আছে গ্রাম-বাংলার অতি পরিচিত কদমফুল এবং কদম গাছ।এক সময় সর্বত্র চোখে পড়ত কদম গাছ। বর্ষার আগমনের সাথে সাথে চোখে পড়ত সেই কদম ডালে ফোটা ফুল থোকা থোকা। বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে আদিকাল থেকে কদম আমাদের প্রকৃতির শোভা বর্ধন করে আসছে। শুধু সৌন্দর্য্য নয়, ভেষজ গুণের পাশাপাশি কদমের রয়েছে অর্থনৈতিক গুরুত্বও।বীজ থেকে চারা হয়। চারা গজানোর ৯-১০ বছরের মধ্যে ফুল ফোটে। আষাঢ় মাসে গাছে ফুল আসে। ফুলগুচ্ছ আকারে গোলাকার সাদা বর্ণের হয়ে থাকে।
কদম ফুলে সৌরভ ছড়ানো পাশাপাশি  এর সাদা-হলুদ রঙ নজর কেড়ে নেয়। কদম গাছ একশ ফুট লম্বা ও ছয়-সাত ফুটেরও বেশি চওড়া হয়ে থাকে। বন্যা ও খরা সহিষ্ণু গাছ শতাব্দীর পর শতাব্দী বেঁচে থাকতে পারে। কদমের সাদা-হলুদ, পাতার সবুজ কোটি ডাল আন্দোলিত করে প্রকৃতিতে আসত বর্ষাকাল। কদম ছাড়া বর্ষা বেমানান। হলুদ, শুভ্রতার সংমিশ্রণে গোলাকৃতির এই ফুল এখন কদম গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে। কদম গাছের শাখে পাতার আড়ালে ফুটে থাকা অজস্র কদম ফুলের সুগন্ধ লোকালয় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। আর তাই তো কদম ফুলকে বলা হয় বর্ষার দূত। কদম ফুলের আরেকটি নাম হচ্ছে নীপ। কদম ফুলের সৌন্দর্য্যরে মতোই আরও কিছু চমৎকার নাম রয়েছে। বৃত্তপুষ্প, সর্ষপ, ললনাপ্রিয়, সুরভী, মেঘাগমপ্রিয়, মঞ্জুকেশিনী, কর্ণপূরক, পুলকি এসবও কদম ফুলের নাম। কদম নামটি এসেছে সংস্কৃত নাম কদম্ব থেকে। কদম্ব মানে হলো যা বিরহীকে দুঃখী করে। প্রাচীন সাহিত্যের একটি বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে কদম ফুলের আধিপত্য। মধ্যযুগের বৈষ্ণব সাহিত্যেও কদম ফুলের সৌরভমাখা রাধা-কৃষ্ণের বিরহগাথা রয়েছে। গীতাতেও রয়েছে কদম ফুলের সরব উপস্থিতি। কদম ফুল শুধু বর্ষায় প্রকৃতির হাসি নয়, এর রয়েছে নানা উপকারিতা। কদম গাছের ছাল জ্বরের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কোনো কোনো অঞ্চলে কদম ফুল তরকারি হিসেবে রান্না করেও খাওয়া হয়। কদম গাছের কাঠ দিয়ে দিয়াশলাই তৈরি করা হয়ে থাকে। বর্ষায় প্রকৃতির সতেজ-সজীব রূপ-রস যুগ যুগ ধরে মানুষের হৃদয় জয় করে এসেছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি সব আবর্জনা ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে। বন্যার পানি পলিমাটি বয়ে এনে দেশকে করে সুজলা- সুফলা। তাই তো বর্ষা ঋতু এত কাব্যময়, প্রেমময়,ঐশ্বর্যশালী। তাই বর্ষাকাল বাঙালির এত প্রিয়।
ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার   বেশ কিছু এলাকায় ঘুরে ঘুরে দেখা যায় কদম গাছের ডালে ডালে ছেয়ে গেছে ফুলে ফুলে । আর তার অপরূপ দৃশ্যে মুগ্ধ করছে সবাইকে। বিশিষ্ট সাংবাদিক কামরুল শিকদার  জানান,কৈশরে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে কদম ফুল সংগ্রহ করে খেলা করেছি এবং কদম ফুলের গোটা দিয়ে মারবেল খেলা করে আনন্দ উপভোগ করেছি। কিন্তু কালের চক্রে সৌন্দর্য বর্ধক এই বৃক্ষটি দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে ।
সোমা নামে এক নববধূ  জানান, কদম ফুল জানিয়ে দেয় বর্ষাকালের আগমন। আমরা এই ফুল দিয়ে চুলের খোপায় পড়েছি। তাই প্রকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এই বৃক্ষ লাগানো প্রয়োজন । তা না হলে আগমী প্রজন্ম এ বৃক্ষ অপরূপ দৃশ্যে মুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হবে ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host