মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৭:২২ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

ফকিরহাটের মাসকাটা সরকারী খাল নেট-জাল-পাটা দিয়ে দখল

পি কে অলোক
Update : রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১, ৪:১৩ অপরাহ্ন

পি কে অলোক,ফকিরহাট: বাগেরহাটের ফকিরহাটের মাসকাটা সাবপ্রজেক্ট সরকারী খালে শতশত ব্যক্তি অবৈধ ভাবে জাল-পাটা কুমোর নাগানী ও ভেড়ীবাঁধ দিয়ে খাল গুলি ঘিরে মাছ ধরার নামে পানি নিস্কাশনে চরম বাঁধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রবল বর্ষনে উপরে জমে থাকা বিপুল পরিমানে পানি নিচেই নামতে না পেরে স্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে তা এখন বন্যার রুপ ধারন করতে শুরু করেছে। উপজেলা প্রশাসন অবৈধ ভাবে জাল-পাটা কুমোর নাগানী ও ভেড়ীবাঁধ দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করায় অর্ধশতাধিক বিলের মৎস্য ঘের জমির ফসল ক্ষেত ও বাড়ির আঙ্গিনা তলিয়ে তাঁরা এখন পথে বসার উপত্রম হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন না করলে বন্যার রুপ চরম থেকে চরম আকারে পৌঁছানোর আশাংকা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধ্যানে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পিলজংগ ইউনিয়নের পিলজংগ শ্যামবাগাত টাউন নওয়াপাড়া, বাগেরহাট সদরের রাখালগাছি ইউনিয়নের রাখালগাছি সুনগর পাইকপাড়া বড়পাইকপাড়া, নবাবপুর সোনাডাঙ্গা চুলকাটি, বেতাগা ইউনিয়নের মাসকাটা ধনপোতা চাকুলী, লখপুর ইউনিয়নের লখপুর ভট্টেখামার জাড়িয়া জাড়িয়া মাইটকুরা ভবনা এলাকার উপরে জমে থাকা বৃষ্টির সকল পানি এই মাসকাটা-ধনপোতা সাবপ্রজেক্ট সরকারী খাল হয়ে যুগীখালী নদীর উপর দিয়ে ৬গেট অতিক্রম করে পানিটি রুপসার ভৈরব নদীতে গিয়ে মিশে পড়ে। সেই হিসাবে মাসকাটা-ধনপোতা সাবপ্রজেক্ট সরকারী খালটি সকল মানুষের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলের প্রায় অধিকাংশ ধান ও মৎস্য চাষিরা এই খালের উপর নিভরশীল হয়ে তাদের জমিতে চাষাবাদ করে থাকেন। কিন্তু বছরের পর বছর সেই খালে শতাধিক ব্যক্তি অবৈধ ভাবে জাল-পাটা কুমোর নাগানী ও ভেড়ীবাধ দিয়ে ঘিরে মাছ ধরার কাজ করে আসছে। যে কারনে প্রবল বর্ষনে উপরে জমে থাকা বিপুল পরিমানে পানি নিচেই নামতে না পারায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এই খালটি ৬/৭টি ইউনিয়নে বসবাসকারিদের কাছে খুব মুল্যবান হলেও করার কিছু নেই। কারণ গুটি কয়েকজন ব্যক্তি সেই খালের ৪০/৪৫ এমনকি কোন কোন স্থানে (জোলা খালে) ২০/২৫হাত অন্তর অন্তর অবৈধ ভাবে জাল-পাটা কুমোর ও কোন কোন স্থানে ভেড়ীবাঁধ দিয়ে ঘিরে সেখানে মাছ ধরা বা মাছ চাষের কাজ করেই চলছে। আর এই মাছ ধরার কাজ করায় ঘের ও জমির মালিকরা পড়েছেন মহাবিপাকে। তাঁরা বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে শতশত নালিশ করেও কোন সুফল পাইনী। এ অবস্থায় তাঁরা দখলকারিদের কাছে এক প্রকার জিন্মি হয়ে পড়েছেন।
লখপুরের ভবনা গ্রামের ইউসুপ আলী, নজরুল ইসলাম. দাউদ গাজী, মিরাজুল ইসলাম, এলাহী শেখ, হিরন আলী ও জালাল শেখ সহ একাধিক ব্যক্তিরা অভিযোগ করে বলেন মাসকাটা সরকারী খাল সহ তার ছোট্ট ছোট্ট জোলা খাল গুলিতে ১০/২০হাত অন্তর অন্তর ভেশাল নাগানী কুমোর ও জাল-পাটা দেওয়া হয়েছে, যে খেওলা জাল দিয়ে মাছ ধরা যায়না। দখলকারিরা পানি নিচেই বিশাল বিশাল কুমোর জাল-পাটা ও নেট দিয়ে ঘিরে চারো বচনো দোয়োড় পেতে রেখেছে। জাল-পাটা নেট ও কুমোরে ছেদলা পড়ে পানি সরবরাহ হতে পারেনা। যে কারনে খালে স্রোত থাকলেও তা সহজে নিচেই সরবরাহ হতে না পেরে খাল বিল ও ঘেরে পানি জমে থাকছে। তারা আরো অভিযোগ করে বলেন, বেতাগা ইউনিয়নের মাসকাটা গ্রামের আলোমগীর মোড়ল, হুমায়ুন মোড়ল, আরিফ হোসেন, আলামিন শেখ, মনিরুজ্জামান মনি, বিল্লাল হোসেন, লুৎফার রহমান ও মুজাহিদ সহ শতাধিক ব্যক্তিরা মাসকাটা খালে জাল-পাটা নেট ও কুমোর দিয়ে খালটি ঘিরে সেখানে মাছ ধরার নামে পানি নিস্কাশনে চরম বাঁধা সৃষ্টি করছে। বছরের পর বছর ধরে একই ব্যক্তিরা একই স্থানে অবৈধ ভাবে সরকারী খাল দখল করে নেট জাল পাটা দিলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন না করায় বিল গুলিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা এখন চরম আকার ধারন করেছে।
স্থানীয়রা বলেছেন, সকলেই ৬গেটের উপরে রেল বিভাগ কর্তৃক দেওয়া বাঁধ কাটার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু সেই বাঁধ কাটালে কি লখপুর বেতাগা পিলজংগ ও রাখালগাছি ইউনিয়নের জমে থাকা সকল পানি নিস্কাশন হবে। কারণ মাসকাটা সরকারী খালে যে ভাবে নেটজাল পাটা কুমোর দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে তাতে মনেই হয়না। তারা আরো বলেছেন উপরে জমে থাকা সকল পানি সরবরাহ করতে হলে আগে বেতাগা ইউনিয়নের মাসকাটা সরকারী খালের আগা হতে গোড়া পর্যন্ত ও তার ছোট্ট ছোট্ট জোলা গুলি হতে নেট পাটা জাল কুমোর ও ভেশাল উঠিয়ে না ফেললে পানি নিস্কাশন হবে না। লখপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য শেখ আরিদ হোসেন, ৬নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ বজলুর রহমান মোড়ল ও ৭নং ওয়ার্ড সদস্য হারুনার রশিদ বলেন বছরের পর বছর ঐ সরকারী খালে একই ব্যক্তিরা একই স্থানেটিকে ঘিরে মাছ ধরার কাজ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়না। এছাড়াও যুগীখালী নদীর উপরী অংশ হতেও সকল অবৈধ জালপাটা নেট কুমোর উচ্ছেদ করারও দাবী তুলেছেন স্থানীয়রা। এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা বেগমের সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, আমি স্বঃস্বঃ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের এ বিষয়টি অবগত করে যাহাতে দ্রুত খাল গুলি হতে জাল-পাটা নেট ভেশাল ও কুমোর উচ্ছেদ করা যায় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহন করবেনও তিনি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host