সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:২০ অপরাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

পিরোজপুরে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনকারী আজও ফিরে আসেনি

Reporter Name
Update : সোমবার, ১০ মে, ২০২১, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন

পিরোজপুর প্রতিনিধি : দেশ স্বাধীন হবার ৫০ বছরেও আপেক্ষা শেষ হয়নি এক মায়ের। ছেলে দেশ স্বাধীন করে রাতেই ফিরে আসবে বলে গিয়েছিল মাকে। কিন্তু ছেলে আর ফিরে আসেনি। মা এখনো ছেলের অপেক্ষায় বসে থাকেন। এ অপেক্ষা গত ৫০ বছর ধরে প্রতি গভীর রাত পর্যন্ত থাকে। অপেক্ষার এক পর্যয় যখন ক্লান্ত হয়ে দুচোখ জড়িয়ে আসে ঘুমে,তখন পরিবারের অন্যদের প্রতি প্রতিদিনের একই নির্দেশ। ভুল করে ঘরের দরজা বন্ধ করে যেন তারা না ঘুমায়। যে কোন সময় ফিরবে তার ফারুক। রতœগর্ভা এ মায়ের নাম কুলসুম বেগম (৯৫)। তিনি পিরোজপুরের প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনকারী শহীদ ওমর ফারুক এর মা। কুলসুম বেগম এর চার ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে ওমর ফারুক বড়।

১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পিরোজপুরের টাউল ক্লাব চত্তরে (যা বর্তমানে স্বাধীনতা চত্তর নামে পরিচিত) প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন ওমর ফারুক এবং সে দিন শহরের বিভিন্ন অফিস থেকে পাকিস্থানী পতাকা নামিয়ে পুড়িয়ে ফেলেন। সে দিন সন্ধ্যায় সন্ধ্যায় ওমর ফারুক ও অন্য মুক্তিযোদ্ধার পিরোজপুরের ট্রেজারি ভেঙে অস্ত্র লুন্ঠন করে। মামলা হয় সে ঘটনায়। বিশেষ করে স্বাধীন বাংলার পতাকা প্রথম উত্তোলন করা ও অস্ত্র লুঠ দুটি ঘটনায় পাকিস্তানিদের প্রধান টার্গেটে পরিনত হয় ওমর ফারুক। ফলে শহর ছেড়ে গা ঢাকা দেয় ফারুক। পাশাপাশি যুদ্ধের জন্য সংগঠিত করতে থাকে মুক্তিযোদ্ধাদের। ২৯ মে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার আটঘড় কুরিয়ানা থেকে ভারতের যাবার উদ্দেশ্যে রওয়া হয়। লঞ্চে গোপনে যাবার পথে তার বাবার অফিসের হানিফ নামে এক পাকিস্থানী কর্মচারী যে সব সময় তাদের বাসায় আসা যাওয়া করতো, সে ফারুককে চিনতে পেরে আলবদর বাহিনী খবর দিয়ে আটক করে ফারুককে এরপর বরিশালে হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। ৪ জুন বরিশালের কীর্তন খোলা নদীর তীরে ১৪ গোডাউন ঘাট এলাকায় হানাদার বাহিনী ওমর ফারূককে নির্মম নির্যাতন করে তাকে হত্যো কওে লাশ গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে।

কুলসুম বেগম দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে অপেক্ষা করে আছেন তার ছেলে কখন ফিরে আসবে। প্রতিদিন ভাত রান্নার সময় ফারুকের জন্য একটু বেশি করে ভাত রান্না করতে বলতেন পরিবারের সদস্যদের এভাবেই চলছে পঞ্চাশ বছর ধরে। কুলসুম বেগম এর স্বামী মরহুম সৈয়দুর রহমান শরীফ একজন সরকারী চাকুরীজীবী ছিলেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হলে সেই ক্ষোভে সৈয়দুর রহমান শরীফ সরকারী চাকুরী ছেড়ে দেন। মুক্তিযুদ্ধেও সময় তিনি ৯নং সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর অব: জিয়াউদ্দিন আহম্মেদের সাথে বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগীতা করেছিলেন।

৮ ছেলে মেয়েদেও মধ্যে ৬ ছেলে মেয়ে বেঁচে থাকলেও কুলসুম বেগম আজও ভুলতে পারেনি তার বড় ছেলে ওমর ফারুক কে। তাইতো হঠাৎ করেই ফারুক আসছো বলে চিৎকার দিয়ে ওঠেন। রতœগর্ভা কুলসুম বেগম কিছচুতেই যেনো ভুলতে পারেন না তার ছেলে ফারুককে। আজ জীবনের শেষ পর্যায়ে এসেও তিনি উপলদ্ধি করেন মুক্তিযুদ্ধের রাতগুলোকে। তাই তো তিনি পরিবারের সদস্যদেও কাছে বারবার জানতে চান ফারুক সহযোগী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এসছিলো কি না সবাই কি খেতে পেরেছি কি না। স্বাধীন দেশের একটি পতাকা ও দেশের মাটির জন্য কুলসুম বেগমের ছেলে ফারুকের যে আত্মত্যাগ তা স্বাধীন দেশের কজন ই বা জানে।

কুলসুম বেগমের মেয়ে জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সালমা রহমান হেপী বলেন, আমার মা আজও অসহায়ের মতো চেয়ে থাকে তার ছেলে ফুরুক কখন ফিরো আসবে। আমরা মা কে কখোনোই বুঝাতে পারিনি যে ভাইয়া আর কখনো ফিওে আসবে না। আমার ভাই প্রথম পিরোজপুরে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তেলন করেছিলেন। তিনি ছিরেন একজন মুক্তিযুদ্ধেও সংগঠক ছিলেন। কিন্ত আমরা দেশ স্বাধীনের পরে তার নামে কোন কিছুর নামকরণ করা হয়নি। তাই বেকুটিয়া ব্রিজ ও জেলা স্ট্রেডিয়াম এর নাম শহীদ ওমর ফারুকের নামে রাখা হলে মা কুলসুম বেগমের ইচ্ছে পূরণ হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host