সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডুতে লাশের সারি দীর্ঘায়িত হচ্ছে, এ সপ্তাহে ৭ জনের মৃত্যু

মোঃ শাহানুর আলম, স্টাফ রিপোর্টার
Update : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১, ৭:২১ পূর্বাহ্ন

মোঃ শাহানুর আলম, স্টাফ রিপোর্টারঃ ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলায় করোনা সনাক্ত হওয়ার পরেও হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা না নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করায় এক সপ্তাহে’র ব্যবধানে ৭জন মৃতুবরণ করেছে বলে জানা গেছে । বুধবার রাত নয়টায় উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের রহিমপুর স্কুল পাড়ার মৃত আনসার আলী মন্ডলের পুত্র আব্দুস সাত্তার (৭০) করোনা আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরন করে। মৃতের লাশের পাশে সারা রাত ধরে করোনা আক্রান্ত অসহায় স্ত্রী ছাড়া আর কেউ অবস্থান করেনি বলে অসুস্থ্য স্ত্রী জানায়। প্রতিবেশী কিম্বা অন্য কেউ মৃতের বাড়িতে এসে সামান্যতম সহানুভূতি টুকুও প্রকাশ করেনি। প্রত্যুষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দাফন কমিটির একটি টীম মৃতের বাড়ি পৌঁছে মরদেহের গোসল, কাফন, কবর খনন, বাঁশ কাটা, জানাজা ও দাফনসহ যাবতীয় কাজের ব্যবস্থা করেন বলে উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা মঈন উদ্দীন আহমেদ জানান। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা নাফিস সুলতানার নির্দেশনায় এবং থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রহিম মোল্লা সঙ্গীয় ফোর্সসহ সশরীরে উপস্থিত থেকে আব্দুস সাত্তারের মরদেহের সৎকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেন।
এদিকে রঘুনাথপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের মৃত মনজুদ মিয়ার পুত্র হাজী মনিরুজ্জামান মিয়া (৭২) করোনা আক্রান্ত হয়ে দুপুর দুইটায় নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরন করেন। সন্ধ্যা ছটায় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের সার্বিক সহযোগিতার ইসলামিক ফাউন্ডেশন উপজেলা দাফন কমিটির একটি টীম জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহে দাফন সম্পন্ন করে বলে টিম সূত্রে জানা যায়।
রাত দশটার দিকে ফলসী ইউনিয়নের কুলবাড়িয়া গ্রামের শুকুর আলী মালিতার পুত্র আনোয়ার মালিতা করোনা আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে মৃত্যবরণ করছে। উপজেলা দাফন টিম রাতেই মরেদহ দাফনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলাতে মাত্র এক সপ্তসহের ব্যবধানে সাতজন করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করায় জনমনে ভীতিকর অবস্থা ঘিরে ধরেছে। প্রসঙ্গত সাতজনের ছয়জনই করোনা আক্রান্ত হওয়ার রেজাল্ট পজেটিভ জেনেও তারা হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ না করে বাড়িতে ফিরে আসে। ফলশ্রুতিতে তারা নিজের মৃত্যু নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহল্লাবাসিকে একটি মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে বলে এলাকাবাসি অভিমত ব্যক্ত করেন।
উপজেলাতে কোভিড নিয়ন্ত্রণে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির বাধ্যতা মূলক চিকিৎসা সেবা গ্রহণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগসহ জনপ্রতিনিধিবৃন্দ কার্যকর ভূমিকা রাখা জরুরী বলে সচেতন নাগরিক মহল মনে করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host