বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে স্বপদে বহাল রাখতে মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ

 মোঃ গোলাপ মিয়া, আদিতমারী (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
Update : বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১, ১২:৪০ পূর্বাহ্ন

মোঃ গোলাপ মিয়া আদিতমারী (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসকে স্বপদে বহাল রাখার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়।
মঙ্গলবার(১ জুন) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মমতাজ বেগম স্বাক্ষরীত পত্রে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এর আগে সোমবার (৩০ নভেম্বর) অসদাচরণসহ ছয়টি কারণ উল্লেখ করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ভাইস চেয়ারম্যান চিত্ত রঞ্জন সরকার।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিনসহ ১৮ জন কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছয়টি বিষয়ে অভিযুক্ত করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসকে গত বছরের ৩০ নভেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব নুমেরী জামান।
যেসব অভিযোগে বরখাস্ত হয়েছিলেন চেয়ারম্যান,আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, দুর্ব্যবহার, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজসহ হুমকিও দিয়েছেন বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন অভিযোগ দায়ের করেছিলেন । আদিতমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক ব্যাপক ভোটে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন  সেই থেকে প্রতিপক্ষ মহল ইমরুল কায়েসের ফারুকের বিরুদ্ধে  উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে  আর্থিক বিষয়ে অনৈতিক মিথ্যা দাবি তোলেন ফারুকের বিরুদ্ধে  পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা নুরেলা আখতারের সঙ্গে অশোভন আচরণ প্রদর্শন করেন।  চেয়ারম্যানের এমন কর্মকাণ্ডে উপজেলার কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে জনস্বার্থ মারাত্বভাবে বিঘ্নিত হতে পারে অভিযোগ করেন আদিতমারী উপজেলা ইউএনও মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন ।চেয়ারম্যানের এসব কার্যকলাপ রাস্ট্র বা উপজেলা পরিষদের স্বার্থের পরিপন্থি। তাই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ সালের এবং সংশোধিত আইন ২০১১ এর ১৩(খ)(১) ধারা অনুসারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদ থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওই পদে সব কার্যক্রমসহ আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হয় উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানকে।
বরখাস্ত চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস স্থানীয় সরকার বিভাগের এ আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন (৯৬৮৭/২০২০) দায়ের করেন। যার প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট বরখাস্তাদেশ স্থগিত করে রায় দেন। যা আপিল করেন রাস্ট্রপক্ষ। গত ২৫ ফেব্রুয়ারী মহামান্য হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ বহাল রেখে রায় প্রদান করেন। যার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার(১ জুন) স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব স্বাক্ষরীত একটি আদেশে আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসকে স্বপদে বহাল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরে পত্র দিয়েছেন। যার স্মারক নং – ৬৪.০০.০০০০ ০৪৬.০৩৬.২০২০-৩৭৭ ।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানায় এখনো চিঠি হাতে পাইনি, তবে চিঠি আসতে পারে। এরপর সেই চিঠির আলোকে আবারও মন্ত্রনালয়ে পত্র পাঠানো হবে। এরপর স্বপদে বসতে পারবেন চেয়ারম্যান
আদিতমারী উপজেলা ইউএনও মোহাম্মদ মনসুরউদ্দিন গত ১২ নভেম্বর মাসিক সমন্বয় সভায় ভিজিডি ও মাতৃত্ব ভাতার তালিকায় নিজের অংশ দাবি করেন অভিযোগ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধি সম্মত না হওয়ায় ইউএনও নাকচ করে দেন । তিনি বলেন উপজেলা চেয়ারম্যান এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সভা অসমাপ্ত রেখে চলে যান এরপর চেয়ারম্যান ইউএনও কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা লোক দিয়ে খুলতে গেলে, তার ছবি তোলেন ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। একইসঙ্গে ক্যামেরা খুলে ফেলার কারণ জানতে চাইলে ইউএনওকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করা হয় হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দাবি করেন ,
উক্ত  ঘটনা কে কেন্দ্র করে  সেই দিন রাতে ইউএনওসহ ১৮ জন কর্মকর্তা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের বরাবরে  একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি তদন্ত করে ১৬ নভেম্বর ৩৭ পাতার তদন্ত প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠায় জেলা প্রশাসন। এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে গত ২৪ নভেম্বর সরেজমিন তদন্ত করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওহাব ভূঞা।
নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১৫ নভেম্বর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় জিডি (নং ৫৫৮) করেন ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। একই দিন যৌথ স্বাক্ষরিত উপজেলার রাজস্ব তহবিলের ব্যাংক হিসাবের ১৯টি চেকের পাতা ছিঁড়ে ফেলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস। যা নিয়েও আদিতমারী থানায় জিডি (নং ৫৫৯) করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের স্টেনোটাইপিস্ট হাবিবুর রহমান। একই ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে ইউএনও’র বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় জিডি করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক।
এদিকে, নয় দফা অভিযোগ তুলে চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসের প্রতি অনাস্থার প্রস্তাব তুলে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছেন উপজেলার প্রতিপক্ষ  আটজন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান । এই সকল অভিযোগ সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে  মহামান্য হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগ ও প্যানেল আইনজীবী সমন্বয় সার্বিক দিক বিবেচনা করে ইমরুল কায়েস ফারুককে স্বপদে বহাল রাখার জন্য আদেশ ক্রমে নির্দেশ প্রদান করেন  । স্বপদে বহাল রাখার চিঠি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার হলে আদিতমারী উপজেলা সর্বস্তরের জনগণ এলাকা মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে ইমরুল কায়েস ফারুক সমর্থ প্রার্থীর লোকজন  ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host