মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
হাম উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু শিল্পকারখানায় আগামীকাল থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে-প্রধানমন্ত্রী সরকারকে সহযোগিতা না করে লংমার্চের নামে লংড্রাইভ করছে জামায়াত- রাশেদ খাঁন লালমনিরহাট জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত দুই মাসে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ৭.৬৭ শতাংশ মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে বিতণ্ডা, এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ মৃত্যু শৈলকুপায় অবৈধ ভাবে পাচারের সময় ১হাজার কেজি সার জব্দ করে কৃষকদের মাঝে বিতরণ হরিণাকুণ্ডুতে পতিত পুকুর থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার সাভারে পুলিশ হত্যার ঘটনায় ১ জন গ্রেপ্তার
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

কথা শিল্পী সমর চক্রবর্তী ও কিছু কথা-কাজী হাসান ফিরোজ 

কাজী হাসান ফিরোজ 
Update : বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩, ১:২৬ অপরাহ্ন

যে গ্রহে মুকেশ আম্বানীর স্ত্রী ষাট লক্ষ টাকায় এক লিটার পানি পান করে, সেই গ্রহের একজন কথাশিল্পী মাত্র পঁঞ্চাশ হাজার টাকা ব্যয়ে শিল্প-সাহিত্যের রোড ম্যাপ তৈরির শিল্পালয় “কথাশিল্প” নামক ছোট কাগজকে আলোর মুখ দেখাতে পারেননা। যদি বলি বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের অনেকেই যুব শ্রেণিকে মাদকাসক্তে প্রনোদনা যোগাতে হাজার হাজার টাকা লগ্নি করেন। সেখানে অনেক কবিকে শিল্প সাহিত্য চর্চায় পৃষ্ঠপোষকতা দূরে থাক দু’বেলা দু’মুঠো অন্নের যোগান দানে কেউ উৎসাহিত নন। তারা এটাকে নন প্রোডাক্টটিভ খাত মনে করেন।
যাদেরকে আমরা শিল্পপতি বলে আখ্যায়িত করি তারা আসলে কারখানা মালিক। তারা কারখানার উৎপাদনে নিমগ্ন থাকেন নিজেদের উন্নয়নের স্বার্থে। তারা দেশের উন্নয়নে যে ভূমিকা রাখেন সেটা বাই প্রডাক্ট। এই কারখানার মালিকগুলো যখোন নিজেদের উন্নয়নে বেঘোর সময় দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তখোন তারাও বিনোদন খোঁজেন। তাদের বিনোদিত করে এই কথা শিল্পীদেরই গান, নাটক, কবিতা। যখোন তারা বিনোদিত হন, তাদের কাঠ-পাথরের হৃদয় শিল্পের ছোঁয়ায় আলোড়িত হয়, বিমোহিত হয়, তখোনও তারা ভাবেননা, এই  পৃথিবীটাকে আরো সুন্দর, আরো উজ্জীবিত রাখতে এই সম্মোহন বিদ্যার  মহান স্রষ্টাদের পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজনীয়তার কথা। দেশ যখোন বহিঃশক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয়, অনেকেই শত্রুদের সাথে হাত মেলায়। তখোন কথাশিল্পীরা কবিতা গান, নাটক লিখে জাতিকে উজ্জীবিত করে। আর একটা জাতিকে ধ্বংসের জন্যেও তাঁদেরকেই সর্ব প্রথম হত্যার টার্গেট করা হয়।
আমরা বাংলা সাহিত্যের শরৎচন্দ্র, মানিক বন্দপাধ্যায়, শওকত ওসমান, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, হুমায়ুন আহমেদ প্রমুখদেরকেই কথা শিল্পী হিসাবে জানি এবং মানি। কারণ তাঁরা কথার মালা গেঁথে সৃষ্টি করেছেন অমর উপন্যাস।  সমর চক্রবর্তী কবি। কবিদেরকে আমরা কথা শিল্পীর মর্যাদা দিতে কুণ্ঠিত। জীবনানন্দ দাস, সমর চক্রবর্তীরাওতো কথার মালা গাঁথেন। তাঁরাও পাঠকদেরকে যাদুকরী শব্দ মালায় সম্মোহিত করেন। আসুন সমর চক্রবর্তীর কিছু কবিতার সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেই। তাঁর কবিতা পাঠের পর কবিতাকে কথাশিল্প এবং সমর চক্রবর্তীকে কথা শিল্পী মানতে আমার মত আপনাদেরও কষ্ট হবেনা।
“বাবার চোখে স্বপ্ন ছিল
ভূগোলের ম্যাপ থেকে উঠে যাবে একদিন সীমান্ত রেখা
মুক্ত নিসর্গে হাত ধরে হেঁটে যাবে জীবন জীবনের সাথে
শান্তি সৌহার্দ্যের মানবিক বাতাসে”
বাবার স্বপ্ন নামের ১৩৯ লাইনের এই কবিতার প্রতিটি লাইনেই আছে কাব্যিকতা, আছে সমাজ বিশ্লেষণ। বাবার প্রতি আকুতিমাখা কথা মালায় ফুটিয়ে তুলেছেন শ্বাশত বাংলার হাজারো পিতা এবং সন্তানের বেদনা ও স্বপ্ন ভংগের কথা।
একই কবিতায় আরেক স্তবকে তিনি লিখেছেন,
“ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, বাবা
আমি তোমার স্বপ্ন হন্তারক পুত্র
নিসর্গের আলোকে প্রান্তরে আরাধ্য,অপরিনামদর্শী
শুধু  জেনে রাখো, নই কুসন্তান
মহাপ্রকৃতির মহাপ্রেম আমি শুধু সময়ের অবহেলা
বাবা তুমি স্বপ্নলোভী পিতা
আমি তোমার দুঃখমাখা গৌরব “
কবি মনে করেন, সব বাবার মতোই তাঁর বাবারও প্রত্যাশা ছিলো, তাঁর মেধাবী সন্তান বড় হয়ে জজ-ব্যারিস্টার হবে। অথবা উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হবে। সেখানে তাঁর সন্তান হয়েছে কবি! সব পিতারই সন্তানের নিকট এ প্রত্যাশা থাকে বা থাকতেই পারে। কবি সমর চক্রবর্তী মনে করেন, তিনি তাঁর বাবার স্বপ্নকে হত্যা করেছেন। তাই তিনি বারবার পিতার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
কবি সংসারের দাবি মিটাতে একবার সরকারি চাকরিতে আবেদন করেছিলেন। চাকরি হবার পর তিনি সেখানে অবৈধ আয়ের গন্ধে সে চাকরিতে যোগদেননি। চাকরির সাধ গ্রহণের জন্যে তিনি একটা জাতীয় পর্যায়ে কর্মরত এনজিওতে তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসাবে চাকরি নিয়েছিলেন। স্বাধীনচেতা কবির পক্ষে বেশিদিন চাকরি করা সম্ভব হয়নি। চাকরি শেষে তিনি লিখলেন,
“ঋণের মুদ্রায় বাঁধানো সোনার দাঁত
চিকচিক হেসে ওঠে এনজিও রোদে
ধার-কর্যের প্রজাপতি ডানায় আগুনের পরিখায় ঝাপিয়ে পড়ে বুক
অচিন স্বপ্নের প্রাচীন গুহায়
হারিয়ে নিশ্চুপ থাকে ঐতিহ্যের খনি
লোনা রোদে হাসে উলঙ্গ বনসাই
বৃক্ষ লতায় ঝুলে থাকে ধূর্ত মাকাল!”
                         (বঙ্গ নগরীর বাউল আকাশ)
কবিরা বিশ্ব নাগরিক। তারা বিশ্বের মানুষের কথা শুধু নয় সমস্ত প্রাণির কথা ভাবে। কবি সমর চক্রবর্তী বুঝার চেষ্টা করেন উদ্ভিদের ভাষা । তিনি লেখেন,
“মহাস্থানগড়ের মেয়ে, মিশরের পিরামিড দেখে এলে
তোমার বুকটাও তো রূপকথা নয়
তোমার শরীরেই তো মানব ইতিহাস কথা কয়
আমাদের এখন অগণন অতিথি প্রয়োজন
শেকড় ছড়ানো ডালপালার যত পুষ্প পত্রাবলি
চাই হিসাব রক্ষক! “
                    ( ঐক্যবদ্ধ নদী পরিষদ)
তিনি আরো লেখেন,
“মাছেদের সার্বভৌম একটি নদী থাকা প্রয়োজন
না হলে মাছেরাও একদা মানুষের বিরুদ্ধে যাবে
যেতেই পারে ; কারণ মাছ আর মানুষের মধ্যে
হাজার বছরের প্রাকৃতিক এক সহিংস বিবাদ”
                ( মাছেদের সার্বভৌম নদী প্রয়োজন)
সমর চক্রবর্তী একদিনে কবি হয়ে ওঠেননি। তাঁর কাব্য চর্চার ইতিহাস সুদীর্ঘ এবং বৈচিত্র্যময়। তাঁর জীবনাচার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায়, যে কেউ যখোন তখোন চাইলেই কবিতা লিখতে পারেননা বা চাইলেই কবি হতে পারেননা। কঠোর সাধনা এবং অধ্যবসয়ে কবিতা নামক শিল্পটি একজন শিল্পীর কাছে ধরা দিতে পারে। অহর্নিশ স্রষ্টার নিকট যাচনা করতে হয়, সোনার হরিণের পিছনে ছুটলেই সোনার হরিণ সবার হাতে ধরা দেয়না। কবিতা নিজে ধরা না দিলে তাকে ধরা যায়না, সে মরীচিকার মতো ছুটতে থাকে। কবি সমর চক্রবর্তী মরীচিকার পিছনে ছুটেছেন, ক্লান্ত হয়েছেন, কিন্তু ধৈর্যহারা হননি। ছুটে  ছুটে তিনি সোনার হরিণের দেখা পেয়েছেন।
সমর চক্রবর্তীর লেখালেখির বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাঁর কবি হয়ে ওঠার ধাপগুলো বা গল্পগুলো আলোচনা করা যায়। কবি সনর চক্রবর্তীর জন্ম সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে। তাঁর লেখালেখির সূচনা আটের ( আশির) দশক থেকেই। যদিও তাঁকে ধরা হয় নয় এর ( নব্বইয়ের) দশকের কবি হিসাবে। কবি হওয়ার বাঁকে বাঁকে অনেক কাহিনি, অনেক কৌতুককর গল্প আছে। শৈশবেই তাঁর উপর ভর করে রবি ঠাকুর এবং কাজী নজরুল। তাঁদের অনুকরণে শৈশবেই তিনি লেখার চেষ্টা করেন। কবি সমর চক্রবর্তী ডাক পিয়ন থেকে শুরু করে প্রাইমারির শিক্ষক অনেকের কাছেই ছুটেছেন। তাঁরা কেউ তাঁর উপর পাণ্ডিত্য ফলিয়েছেন, আবার কেউ নিরুৎসাহিত করেছেন। কবি হবার বাসনায় শৈশবেই সমর চক্রবর্তী বোয়ালমারী উপজেলার ময়না গ্রামে তাঁর বাড়ি সংলগ্ন বিদ্যালয় ছেড়ে কাদা-মাটির ভাঙ্গাচোরা পথ পাড়ি দিয়ে দূরের রাস্তায় উপজেলা সদরের বোয়ালমারী জর্জ একাডেমিতে ভর্তি হন। তিনি উপজেলা সদরে এসে শিক্ষক, উকিল সহ অনেকের কাছেই ছুটেছেন, কবিতা নিয়ে। তিনি মাঝেমাঝে বাইসাইকেল নিয়ে ছুটতেন বাড়ি থেকে ৬০ কি.মি. দূরের শালিখা উপজেলার দরিশলই গ্রামে কবি বীরেন মুখার্জির নিকট। বোয়ালমারী জর্জ একাডেমিতে পড়ার সময় ঘনিষ্ঠতা জন্মে জাহিদুল ইসলাম পল্লবের সাথে। জাহিদুল পল্লব তাঁকে বলে কাজী হাসান ফিরোজ নামের এক কবির আমাদের বাসায় যাতায়াত আছে। একজন সিনিয়র কবির সাথে পরিচিত হবার আশায় পাঁচ বছর ধরে বন্ধু পল্লবকে পকেট ফাঁকা করে পছন্দের খাবার খাইয়েছেন। কবি বন্ধুর পাণ্ডুলিপি নিয়ে পাঁচ বছর ধরে ফরিদপুর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোতে নিজের নামে ছেপেছে জাহিদুল ইসলাম পল্লব। পাঁচ বছর পর যখোন কাঙ্খিত কবির সাথে সাক্ষাৎ ঘটিয়ে দেয়, ততদিনে পাণ্ডুলিপির একটা কবিতাও নিজ নামে ছাপতে বাকি রাখেনাই জাহিদুল ইসলাম পল্লব। কাজী হাসান ফিরোজকে পাণ্ডুলিপি দেখানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে জাহিদুল পল্লব কৌতুক করে বললো, সেগুলো চলে গেছে বাকুড়ার গোশালায়!
সমর চক্রবর্তী মাধ্যমিক পাসের আগেই কবি হবার বাসনায় একবার পশ্চিম বাংলায় গিয়ে ভর্তি হন পাঁচপোতা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। একদিন ক্লাস নিচ্ছেন গৌরি ব্যানার্জি নামের একজন শিক্ষিকা। সমর চক্রবর্তী তাঁর ক্লাসে বসে কবিতা লিখছেন। গৌরি ব্যানার্জি একাধিকবার তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তাঁর কাছে গিয়ে ধমকান। জিজ্ঞেস করেন,তুমি ক্লাসে মনোযোগ না দিয়ে কী করছিলে? সমর চক্রবর্তী বললেন দিদি, আমি প্রসব যন্ত্রণায় কাতর ছিলাম। গৌরি ব্যানার্জি ভুল শুনলেন কিনা তাই আবারও জিজ্ঞেস করলেন, কী বললে? সমর চক্রবর্তী আবারও বললেন, আমি প্রসব যন্ত্রণায় কাতর ছিলাম! গৌরী ব্যানার্জি রেগে গিয়ে নালিশ দিলেন, প্রধান শিক্ষকের নিকট। প্রধান শিক্ষক তাঁকে ডেকে পাঠালেন। কাঠ গড়ার আসামীর মতো তাঁকে দাড় করানো হলো। প্রধান শিক্ষক তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, গৌরী দি’কে তুমি কি বলেছো? সমর চক্রবর্তী সহজ সরল ভাবে বললেন, দিদি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি ক্লাসে অমনোযোগী ছিলে কেনো? আমি তাঁকে বলেছি, আমি  প্রসব যন্ত্রণায় কাতর ছিলাম। প্রধান শিক্ষক বললেন মানে? তিনি বললেন, স্যার, আমি কবিতার প্রসব বেদনায় কাতর ছিলাম। প্রধান শিক্ষক তাঁকে বিদ্যালয় থেকে টিসি দিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিলেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক তাঁকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কবিতা লেখো, তুমি ওপার বাংলা থেকে এসেছো? সমর চক্রবর্তী বললেন আজ্ঞে। সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন নিহার রঞ্জন মজুমদার। তিনিও এক সময় পূর্ব বাংলার মানুষ ছিলেন। তিনি আত্মিক টান অনুভব করলেন। নিহার রঞ্জন মজুমদার সমর চক্রবর্তীর সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন। বিদ্যালয় থেকে তাঁকে আর তাড়ানো সম্ভব হলোনা। বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা বিভা বন্দোপাধ্যায় এর মাধ্যমে পরিচয় ঘটে আকাশ বাণী (বেতার) ও আনন্দ বাজার পত্রিকার প্রতিবেদক নিহার রঞ্জন বন্দোপাধ্যায় এর সাথে। একে একে পরিচয় হয় কবি সম্পাদক গোবিন্দ পান্তি, বিনয় মজুমদার, অমীয় মল্লিক সহ অনেক কবি সাহিত্যিকের সাথে। যাকে স্কুল থেকেই তাড়িয়ে দেয়া হবে, তাঁকেই দেয়া হলো স্কুলের বার্ষিক ম্যাগাজিন সম্পাদনার দায়িত্ব। তাঁর সম্পাদনায়ই বের হয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর সর্ব প্রথম স্কুল ম্যাগাজিন।
একজন কবি একজন সাধক। সাহিত্যের সবচেয়ে গভীর চেতনার চর্চা হয় কবিতায়। তারপরও অনেকে কবিতাকে সাহিত্যের অংশ হিসাবে গণ্য করেননা। আধুনিক যুগে কবি ও কবিতার মূল্য না দিলেও কোন এক সময় রাজ দরবার আলোকিত করতেন কবিরাই।  রাজ কবির প্রতিটি পংক্তির জন্যে এক একটা স্বর্ণমূদ্রা প্রদান করে কবিকে সম্মানিত করারও ইতিহাস আছে ।
সমর চক্রবর্তী এপর্যন্ত সহস্রাধিক কবিতা লিখেছেন। তাঁর কবিতা বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হচ্ছে। ইংরেজি ভাষায় এপর্যন্ত তাঁর দুই শতাধিক কবিতা অনুদিত হয়েছে। ভিন্ন ভাষাভাষীরা তাঁকে কবি হিসাবে, কথাশিল্পী হিসাবে মানলেও আমাদের অনেকেরই কবিতাকে কথাশিল্প হিসাবে স্বীকৃতি দিতে কষ্ট হয়! অথচ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মূলত বাংলা কবিতার।
কবিতা সম্পর্কে গ্রীক কবি এবং বিশ্ব বিখ্যাত দার্শনিক এরিস্টটল বলেছেন, কবিতা দর্শনের চেয়েও বেশি এবং ইতিহাসের চেয়েও বড়।   ইংরেজী সাহিত্যের নামকরা কবি স্যামুয়েল জনসন,তিনি কবিতাকে শিল্প ভাবতেন। তাঁর মতে কবিতা হচ্ছে ছন্দময় গঠন। এমন একটি শিল্প মাধ্যম যা আনন্দের সঙ্গে সত্যকে প্রকাশ করে।  ইংরেজ কবি স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজের মতে, সর্বোৎকৃষ্ট শব্দ সর্বোৎকৃষ্টভাবে সাজানোকে কবিতা বলে। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বসবাসরত আধ্যাত্মিক সাধক, শতবর্ষি দার্শনিক আব্দুল খালেক ওরফে ডক সাহেব সমর চক্রবর্তীর সাক্ষাৎ পেয়ে একদা বলেছিলেন, পৃথিবীতে স্রষ্টার ওহি নাজিল বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু তিনি এখনো মানুষের অন্তরে ভাবের ডাক পাঠান। সে ডাক যারা বুঝতে পারেন, সে ভাবকে যারা ভাষায় রুপান্তর করতে পারেন, তারাই কবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host