বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ঝিনাইদহে কোটা সংস্কারকারিদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া,গুলি বর্ষণ, পুলিশসহ আহত-৪০, আটক-২ সারা দেশে নিহতের সংখ্যা ১৩ স্বাচিপ ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি ডাঃ মামুন, সম্পাদক ডাঃ কাওসার শিবির কর্মী-ছাত্রদল এবং বহিরাগতরা ঢাবির হলে তাণ্ডব চালিয়েছে-মোজাম্মেল হক সারা বাংলা র ৮৮ এর চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীপালন সারা বাংলা’র ৮৮ মাদারীপুর জেলা প্যানেলের উদ্যোগে চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীপালন ঝিনাইদহে কোটা বিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা, আহত-২০ রংপুরে পুলিশের গুলিতে কোটা আন্দোলনকারী আবু সাঈদ নিহত চীন-রাশিয়া সামরিক মহড়া ছাত্র নিহতের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অসত্য: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

হাওয়া ভবনে পরিকল্পনা, গ্রেনেড আসে পাকিস্তান থেকে

Reporter Name
Update : সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০২৩, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২১ আগস্ট এক নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের ভয়াল দিন। সেদিন আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ গ্রেনেড হামলায় রূপ নেয় মৃত্যুপুরীতে। সেই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ দেখে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা দেশ। রক্তাক্ত সেই বিভীষিকাময় ২১ আগস্টের পরিকল্পনা হয় হাওয়া ভবন, আর গ্রেনেড এসেছিল মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি পাকিস্তান থেকে।২১ আগস্ট ২০০৪। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যে ট্রাকে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন সেই ট্রাক চালক রফিকুল ইসলাম তার চোখের সামনে রক্তের ভয়াবহ খেলা, লাশের মিছিল আর আহতদের আহাজারি দেখে বাকরুদ্ধ হয়েছিলেন। সেদিনের ভয়াল স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে আজও আঁতকে ওঠেন তিনি।রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার গায়ে একটা সাদা শার্ট ছিল। পুরো শার্ট রক্ত দিয়ে লাল হয়ে গেছে। আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আমার হাতে, মুখে, কোমরে ও পায়ে স্প্লিন্টার পড়েছিল।’

শেখ হাসিনাকে হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতেই তৎকালীন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা হাওয়া ভবনে জঙ্গিদের সঙ্গে বৈঠক করে গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করে। হারকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও মাওলানা তাজউদ্দিনের সহায়তায় আব্দুল মজিদ ভাটের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে আর্জেস গ্রেনেড সংগ্রহ করা হয়। গ্রেনেড সংগ্রহ ও হামলায় জঙ্গিদের ব্যবহার করা হলেও নেপথ্যে কলকাঠি নাড়েন বিএনপির সে সময়ের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।
 
তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দ বলেন, এ মামলাটিকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে সাজানো হয় ‘জজ মিয়া’ নাটক। নিজেদের সম্পৃক্ততা আড়াল করতেই ঘটনাস্থল ও কারাগারে পাওয়া অবিস্ফোরিত আর্জেস গ্রেনেড নষ্ট করিয়ে ফেলেন সরকারের মন্ত্রীসহ হামলার মাস্টারমাইন্ডরা। সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে পানি ছিটিয়ে মুছে ফেলা হয় ঘটনাস্থলের আলামত। পাশাপাশি হামলায় জড়িত মাওলানা তাজউদ্দিনকে বাদল নামীয় পাসপোর্ট দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
 
আব্দুল কাহার আকন্দ বলেন, ‘অবিস্ফোরিত গ্রেনেডগুলো পুলিশ জব্দ করেছে। এটা মামলার প্রপার্টি হয়ে গেছে। এই প্রোপার্টিগুলো ধংস বা পরীক্ষা করতে হলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।’

আর রাজনীতিবিদরা বলছেন, জঙ্গিরা হামলা করলেও নেপথ্যে ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। তাই এই হামলাকে রাজনীতিতে চরমপন্থিদের প্রভাব বৃদ্ধির ঘৃণ্য অপচেষ্টা বলে মন্তব্য করছেন তারা।
 
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, মুফতি হান্নান জবানবন্দিতে বলেছেন যে তিনি হাওয়া ভবনে দুইবার গিয়েছেন। তার সঙ্গে কাশ্মীরি জঙ্গিরা ছিল। বিএনপির উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আরও বেশ কয়েকজন ছিলেন।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলায় ষড়যন্ত্রের পরিবর্তে রাজপথে আন্দোলনের পরামর্শ জেষ্ঠ্য রাজনীতিবিদদের।

সেদিন কী ঘটেছিল

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় আয়োজিত সমাবেশে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। হামলার পরপরই শেখ হাসিনাকে কর্ডন করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তার তৎকালীন বাসভবন ধানমন্ডির সুধা সদনে। ২১ আগস্টের রক্তাক্ত হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৬ জন। পরে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ মোট ২৪ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারান। রক্তাক্ত-বীভৎস ওই ভয়াল গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমান ছাড়াও সেদিন নিহত হন ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, হাসিনা মমতাজ রিনা, রিজিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), রতন শিকদার, মোহাম্মদ হানিফ ওরফে মুক্তিযোদ্ধা হানিফ, মোশতাক আহমেদ, লিটন মুনশি, আবদুল কুদ্দুছ পাটোয়ারী, বিল্লাল হোসেন, আব্বাছ উদ্দিন শিকদার, আতিক সরকার, মামুন মৃধা, নাসির উদ্দিন, আবুল কাসেম, আবুল কালাম আজাদ, আবদুর রহিম, আমিনুল ইসলাম, জাহেদ আলী, মোতালেব ও সুফিয়া বেগম। গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের সঙ্গে লড়াই করে ঢাকার মেয়র মোহাম্মদ হানিফসহ আরও কয়েকজন পরাজিত হন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host