সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

শৈলকুপা ট্রান্সফর্মার চুরি, হুমকিতে ৩০০ বিঘা জমির ধান

রয়েল আহমেদ, শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
Update : বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০২৪, ৭:২৫ পূর্বাহ্ন

রয়েল আহমেদ,শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের শৈলকুপায় উপজেলার দেবতলা মাঠে সেচ পাম্পের দুটি ট্রান্সফর্মার চুরি হয়েছে। এতে জমিতে রোপণ করা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। তারা জানায় সময়মতো পানি না পেলে মারা যাবে ৩০০ বিঘা জমির ধান। ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করে একটি ট্রান্সফর্মারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। অন্যটি কৃষকদের নিজ অর্থে কিনতে হবে জানান ঝিনাইদহ বিএডিসির (ক্ষুদ্রসেচ) সহকারী প্রকৌশলী জাহিদ হাসান।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার (৪ মার্চ) রাতে উপজেলার দেবতলা মাঠে বিএডিসির আওতায় পরিচালিত সেচ প্রকল্পের গভীর নলকূপের দুটি ট্রান্সফর্মার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরদিন সকালে মাঠে গিয়ে কৃষকেরা ট্রান্সফর্মার না দেখে নলকূপের মালিককে অবহিত করেন। পরে তিনি প্রকল্প কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পার হলেও ট্রান্সফর্মার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) তথ্যমতে, শৈলকুপা উপজেলার দেবতলা মাঠে প্রায় সাড়ে ৩০০ বিঘা জমিতে প্রতি মৌসুমে আবাদ করা হয় বিভিন্ন জাতের ধান। ধানে সেচ দেওয়ায় কৃষকের সুবিধার্থে মুজিবনগর সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের ২০১২-১৩ অর্থ বছরের আওতায় গভীর নলকূপ স্থাপন হয়। ওই নলকূপ স্থাপন হওয়ায় মাঠের ফসলে সেচ দিতে সুবিধা পায় দুই শতাধিকের বেশি কৃষক। তবে মাঠে সেচ দিতে ভরসা সেই সেচপাম্পের তিনটি ট্রান্সফর্মার মধ্যে দুটি চুরি হয়ে যাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, এর আগেও দুইবার ট্রান্সফর্মার চুরি হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেননি। তারা ফসল বিক্রির টাকা দিয়ে ট্রান্সফর্মার লাগিয়েছিলেন। কিন্তু এবার ঘরে জমানো কোনো ফসল কিংবা অর্থ নেই যে তা বিক্রি করবেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠে যতদূর চোখ পড়ে শুধুই ধানের আবাদ। জমিতে চারা রোপন শেষ হয়েছে, কিছুদিন পরই বের হবে শীষ। কিছু জমিতে হালকা পানি থাকলেও অন্য জমিতে প্রায়ই শুকিয়ে গেছে। জমিতে পানি নিতে না পারায় চিন্তায় কৃষকরা। কেউবা জমিতে বসে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন। তাদের দাবি, কয়েকদিন পরই জমির পানি শুকিয়ে যাবে।
কৃষক পাভেল খান বলেন, আড়াই বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। কয়েক দফায় জমিতে পানি দিয়েছি। হঠাৎ করে সেচ পাম্পের ট্রান্সফর্মার চুরি হওয়ায় জমিতে পানি দেওয়া নিয়ে চিন্তায় মধ্যে আছি। চারদিন হলো জমিতে পানি নেই। দু-একদিনের মধ্যে জমিতে পানি না দিলে বেড়ে ওঠা ধান মরে যাবে।
কৃষক আলিম হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমের ধান আমরা সারাবছর রেখে চাউল বানিয়ে খাই। এবারের ধান মরে গেলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।
দেবতলা মাঠের গভীর নলকূপের ম্যানেজার (পরিচালক) শুভ খান বলেন, রাতে কোনো এক সময় সেচ পাম্পের দুটি ট্রান্সফর্মার চুরি হয়। যা দিয়ে দুই শতাধিক কৃষকের প্রায় সাড়ে তিন বিঘা জমিতে পানি সেচ দেওয়া হয়। ট্রান্সফর্মার পুনঃস্থাপন না করা পর্যন্ত সেচ বন্ধ থাকবে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা কৃষকদের নিজ অর্থে ট্রান্সফর্মার কিনতে বলেছেন। দ্রুত ট্রান্সমিটারের ব্যবস্থা না হলে পানির অভাবে ধান মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দিগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান তপন বলেন, চুরির বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। চুরি রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঝিনাইদহ বিএডিসির (ক্ষুদ্রসেচ) সহকারী প্রকৌশলী জাহিদ হাসান বলেন, দেবতলা মাঠের গভীর নলকূপে ৩টি ট্রান্সফর্মারের মধ্যে একটি বিএডিসির। চুরি হওয়া দুটি ট্রান্সফর্মার মালিক কৃষকেরা। ওই ম্যানেজারকে থানায় অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। ঊধ্বর্তন কতৃপক্ষকে সুপারিশ করে একটি ট্রান্সফর্মারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। অন্যটি কৃষকদের নিজ অর্থে ক্রয় করে নিতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host