শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

মঙ্গল শোভাযাত্রায় বর্ষবরণ শুরু

Reporter Name
Update : বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২২, ১০:১২ পূর্বাহ্ন

করোনা মহামারীর দুঃসময় কাটিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপনে মেতে উঠেছে বাঙালি জাতি। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণের অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রায় স্বাগত জানানো হয় নতুন বছর ১৪২৯-কে। সকাল ৯টায় টিএসসির রাজু ভাস্কর্য প্রাঙ্গণ থেকে ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে মঙ্গল শোভাযাত্রাটি বের হয়। শোভাযাত্রা স্মৃতি চিরন্তন হয়ে পুনরায় টিএসসিতে গিয়ে শেষ হয়। এবারের শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে, ‘নির্মল করো, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে।’

করোনায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর শোভাযাত্রা এবার সশরীরে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। শোভাযাত্রায় অংশ নিতে আসা নারীদের অনেকের পরনে শাড়ি আর মাথায় নানা রঙের ফুল। পুরুষদের পরনে পাঞ্জাবি। সবারই চোখে-মুখে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। শোভাযাত্রায় আবহমান বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রতীকী উপস্থাপনের নানা বিষয় স্থান পেয়েছে।

এদিকে শোভাযাত্রায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে ব্যাপক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো রয়েছে পুরো এলাকা।
আশির দশকে সামরিক শাসনের অন্ধকার ঘোচানোর আহ্বানে পয়লা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়েছিল। এটিই পরে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নাম ধারণ করে। গত তিন দশক ধরে প্রতি বছরই পয়লা বৈশাখে চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হচ্ছে। ২০১৬ সালে ইউনেসকোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায় এই শোভাযাত্রা। মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বাঙালির হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যের মেলবন্ধনের মাধ্যমে কূপমণ্ডূকতা ও সংকীর্ণতার ঘৃণ্য অবয়বের ওপর সাংস্কৃতিক আঘাত হিসেবে দেখা হয়ে থাকে।

এদিকে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণের আয়োজন শুরু হয় রাগালাপের মধ্য দিয়ে। এরপর সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রসংগীত ‘মন, জাগো মঙ্গল লোকে’।
পাকিস্তানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় জাগরণ গড়ে তুলতে সংস্কৃতিকর্মীরা গড়ে তোলেন সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। এই সংগঠনের উদ্যোগেই ১৯৬৭ সালে রমনার বটমূলে হয় প্রথম বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। এবার ৮৫ জন শিল্পীর পরিবেশনায় বৈশাখী আয়োজন সাজিয়েছে ছায়ানট। গান ও আবৃত্তিসহ তাতে ছিল মোট ৩৭টি পরিবেশনা। দুই বছর পর উৎসবের এই দিনে কাক ডাকা ভোরে দলবেঁধে মানুষ ছুটেছে রমনায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host