বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০২:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ঝিনাইদহে কোটা সংস্কারকারিদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া,গুলি বর্ষণ, পুলিশসহ আহত-৪০, আটক-২ সারা দেশে নিহতের সংখ্যা ১৩ স্বাচিপ ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি ডাঃ মামুন, সম্পাদক ডাঃ কাওসার শিবির কর্মী-ছাত্রদল এবং বহিরাগতরা ঢাবির হলে তাণ্ডব চালিয়েছে-মোজাম্মেল হক সারা বাংলা র ৮৮ এর চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীপালন সারা বাংলা’র ৮৮ মাদারীপুর জেলা প্যানেলের উদ্যোগে চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীপালন ঝিনাইদহে কোটা বিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা, আহত-২০ রংপুরে পুলিশের গুলিতে কোটা আন্দোলনকারী আবু সাঈদ নিহত চীন-রাশিয়া সামরিক মহড়া ছাত্র নিহতের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অসত্য: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

অহিংস আন্দোলনের কথা বলে বিএনপি আগুন-সন্ত্রাসে জড়াচ্ছে

Reporter Name
Update : সোমবার, ৩১ জুলাই, ২০২৩, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন

জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে আবারও সহিংস হয়ে উঠছে বিএনপি এবং তার সহযোগীরা। ২৯ জুলাই ঢাকার চার প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় দলটির নেতাকর্মীরা। বাস ও বিভিন্ন পরিবহনে অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে রাজপথে উত্তাপ ছড়ানোর চেষ্টা করে তারা। অথচ ২৮ তারিখ তাদের সমাবেশ ছিল বাধাহীন ও শান্তিপূর্ণ।

২০১৮ সালের পর বিএনপির আন্দোলন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই অহিংসভাবে শুরু করে সহিংসতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে তাদের কর্মসূচি।

 ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের দুই মাস পর দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর তার মুক্তির দাবিতে বিএনপি সড়কে নামলেও জোরালো কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি।
 
বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে দলটির আন্দোলন আটকে যায় নয়াপল্টন ও প্রেসক্লাবের গন্ডিতে। সভা-সমাবেশ, মানবন্ধনের মাধ্যমে নেত্রীর মুক্তি ও বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলতে থাকেন নেতাকর্মীরা। এ সময় প্রতি সপ্তাহে প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করতো বিএনপি। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় তারা। বন্ধ হয়ে যায় প্রেসক্লাবকেন্দ্রিক সমাবেশ।
 
এরপর তারা কর্মসূচি করতে থাকে নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে। ২০২০ সালের মার্চে করোনার কারণে সীমিত হয়ে আসে রাজনৈতিক কার্যক্রম। ওই বছরের ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশ মুক্ত হন বেগম জিয়া।
  

২০২১ থেকে বাড়ে সংঘর্ষ

 

১৮ সালের নির্বাচনের পর দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে রাজনৈতিক উত্তাপ দেখা দিলেও ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর বড় সংঘর্ষ হয় ঢাকায়। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে বিএনপির সম্প্রীতি সমাবেশ শেষে নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে নেতাকর্মীদের। এ সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত হয় বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।
 

পরে ৩১ জুলাই ২০২২, বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ভোলা। পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে নিহত হন একজন, আহত হন ৪০ জনেরও বেশি। পরের মাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালিকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
 
গত বছরের আগস্ট থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন শুরু করে দলটি। সাংগঠনিক বিভাগগুলোতে হয় সমাবেশে। সে সময় বেশ কয়েকটি জেলায় পুলিশ-বিএনপি-আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় বিএনপি-নেতাকর্মীরা। পুলিশের ওপর হামলা করে দলটির নেতাকর্মীরা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশের ওসিসহ আহত হন অন্তত ২৫ জন। নিহত হন একজন।
  

ডিসেম্বরে উত্তপ্ত পল্টন

 

ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে ফের সংঘর্ষে জড়ায় বিএনপি নেতাকর্মীরা। হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পরে এ ঘটনার মামলায় জেলে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাসসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী।
 
এরপর এক মাস আবারও চলে দলটির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। ২০২৩-এর শুরুর দিকে বিদ্যুতের দাম বাড়ার প্রতিবাদে মাঠে নামে দলটি। বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে ১৬ জানুয়ারি পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি। এরপর আর বড় কোনো কর্মসূচিতে যায়নি দলটি। বিছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটনা ঘটলেও বড় ধরনের সংঘাতে জড়ায়নি বিএনপির নেতাকর্মীরা।
 

১৪ জুন দলটির তারুণ্যের সমাবেশে যোগ দেয়ার পথে চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করে বিএনপি কর্মীরা। সংঘর্ষে জড়ায় পুলিশের সঙ্গে।
 

এক দফার আন্দোলন থেকে ফের আগুন-সন্ত্রাস

 

১২ জুলাই পল্টনের সমাবেশ থেকে সরকার পতনের এক দফা ঘোষণা করে বিএনপি। শুরু হয় দলটির শেষ ধাপের আন্দোলন। ১৮ জুলাই সারাদেশে পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। এ কর্মসূচিতে ঢাকাসহ দেশের ১০টি জেলা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। পরদিনও কয়েকটি জেলায় সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
 
এক দফা দাবির চতুর্থ কর্মসূচি ছিল শনিবার। পুলিশের অনুমতি না থাকার পরও ঢাকার পাঁচটি স্থানে অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করে দলটি। পুলিশ বাধা দিলে শুরু হয় সংঘর্ষ। যুদ্ধের ময়দানে পরিণত হয় ঢাকার প্রবেশমুখগুলো। পুলিশের গাড়িসহ অন্তত ৩০টি গাড়ি ভাঙচুর ও ৬টি গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। আহত হন ৩১ জন পুলিশ সদস্য।
 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ দলটির অনেক নেতাকর্মীও আহত হন।
 

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন বিএনপির যেকোনো কর্মসূচি অহিংসভাবে শুরু হলেও সহিংসতায় শেষ হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বিএনপি কি তবে ‘১৩- ‘১৪ সালের মতো আবারও জ্বালাও-পোড়াওয়ের পথে হাঁটছে?
  

বিপজ্জনক প্রবণতা

 

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ডাক দিয়ে বিএনপির সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে বিপজ্জনক প্রবণতা বলে আখ্যায়িত করেছেন সাংবাদিক ও গবেষক অজয়দাশ গুপ্ত।
 
তিনি বলেন, বড় জমায়েত হলে সহিংসতা না করেও মানুষকে নিজেদের বার্তা দেয়া সম্ভব। তা না করে শক্তিপ্রয়োগ করে, ঢিল মেরে, পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে বিএনপি পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে চাইছে। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
 
লাঠি নিয়ে তারা পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। গাড়ির কাচ ভেঙেছে। পুলিশের বিশেষ ধরনের গাড়িতে তারা হামলা করেছে। এভাবে হামলা চালিয়ে তারা এমন কী অর্জন করতে চাইছে–প্রশ্ন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষকের।
 
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ভন্ডুল করতে শেষ পর্যন্ত তারা সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন অজয়দাশ গুপ্ত। সূত্র: সময়
 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host