ওইসব এলাকার ৩০-৩৫ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও এসব এলাকায় বাড়ির আঙিনায় ও পতিত জমিতে পরিবারের চাহিদা মেটানোর জন্য শিম চাষ হতো। অন্যান্য ফসলের চেয়ে শিম চাষ করে বেশি লাভবান হওয়ায় এখন বাড়ির আঙিনা পেরিয়ে গ্রামের মাঠ জুড়ে হচ্ছে শিম চাষ। হাইব্রীড জাতীয় শিম হাবিল আর রূপবান শিম চাষে বেশী ফলন হওয়ায় চাষিররা এই দুইটা জাত বেশি করে লাগিয়েছেন। আগাম সবজি হিসেবে শিমের চাহিদা বেশি থাকায় বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।
রামনগর গ্রামের রুস্তম আলী বলেন, ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই তাদের খেতে আগাম শিম উঠতে শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন , যেকোনো সবজি যদি মৌসুমের শুরুতেই বাজারে তোলা যায়, তবে তার দাম যেমন বেশি পাওয়া যায়, তেমনি গ্রাহকদের কাছে তার চাহিদাও বেশি থাকে, সে কথা ভেবে এবারও তিনি জমিতে আগাম শিম চাষ করেছেন। এবার তাঁর ১২ কাঠা জমিতে শিম চাষ করে এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন।
তাদের মতো আগাম শিম চাষে লাভবান হওয়া একই গ্রামের এক নারী বলেন, এবার ফলন ও দাম ভালো পেয়ে তার সংসারের অভাব দূর হয়েছে। তার এ সাফল্যে গ্রামের অন্য গৃহিণীরাও আগাম সবজি হিসেবে শিম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এবছর ৪১ হেক্টর জমিতে আগাম সবজির চাষ করছেন কৃষকরা, এরমধ্যে রয়েছে শিম, বেগুন, লালশাক, পুঁইশাক ও টমেটোর চাষ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর বলেন, সাধারণত আগাম সবজি চাষে পোকামাকড়ের আক্রমণ বেশি থাকে। তবে কৃষকেরা এখন সচেতন হওয়ায় যেকোনো সমস্যায় তারা সরাসরি স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ নেন। এবার চলতি মৌসুমের শুরুতেও শিমখেতে ছত্রাক ও পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সুষ্ঠু পরিচর্যায় শেষ পর্যন্ত শিমের ফলন ভালো হচ্ছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার দামও ভালো। তিনি আশা প্রকাশ করেন ধীরে ধীরে এই আগাম সবজির আবাদ আগামীতে আরও বাড়বে।