খুলনা ব্যুরো॥ খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ১৮ মাইল বাজার কলেজ রোড সংলগ্ন আইস ফ্যাক্টরির সামনে নিজ বাড়িতে খুন হয়েছেন মোঃ শামিম শেখ (৩৫)। শুক্রবার রাতে শামীমকে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করেছেন দুর্বৃত্তরা। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে দুই যুবককে আটক করেছেন।
আটককৃতরা হলেন; মনিরামপুর উপজেলার কোন্দলপুর গ্রামের আবু বক্কার দফাদারের ছেলে ইজাজুল ইসলাম (৩৬) ও তালা উপজেলার বলরামপুর গ্রামের আহম্মদ আলী সরদারের ছেলে শরিফুল ইসলাম সরদার (৪০)। পুলিশ নিহত শামীমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন।
নিহত শামীম শেখ ডুমুরিয়া উপজেলার বেতাগ্রামের আঃ গফ্ফার শেখের ছেলে। সে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ডুমুরিয়াা উপজেলার আঠারো মাইল গ্রামের গফফার শেখের ছেলে শেখ শামীম (৩৫) দুই বছর আগে ১৮মাইল বাজারে মোটরসাইকেল মিস্ত্রির কাজ করতেন। বর্তমানে সে কীটনাশক ব্যবসায়ী। তাদের তিনতলা বিশিষ্ট বাড়ির নিচতলা ভাড়া দেওয়া। সেখানে ভাড়াটিয়ারা থাকেন। ২য় তলায় থাকতেন শামীম ও তার পরিবার। ভবনের তিনতলায় কেউ থাকতেন না। প্রায় ২৫ বছর আগে তালার উথালিগ্রাম থেকে ১৮ মাইল এসেছেন তারা।
শামীমের মাতা রশিদা বেগম জানান, প্রতিরাতে বহিরাগত লোক আসতো তাদের বাসায়। শুনেছি ওরা মাদকের নেশা করত। ঘরে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে আনন্দ উল্লাস করত। সেখানে পরিবারের কাউকে যেতে দিত না। ঘটনার রাতে এজাজুল ও শরিফুল নামের দুই ব্যক্তি এসেছিল। প্রায়ই তারা আসতো। কেন আমার ছেলেকে হত্যা করেছে আমি কিছুই বলতে পারলাম না বলে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা রশিদা বেগম। স্থানীয়রা ধারণা করছেন এই হত্যাকা-ের সাথে মাদকদ্রব্য সেবন ও বেচাকেনার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
শামীমের একমাত্র ছেলে তাজ (১২) পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। ঘটনার বিষয়ে সে জানায়, শামীম ও এজাজ বাবার সাথে তিনতলায় ছিলো। ওরা প্রায়ই আসতো। আমি বাবাকে নিষেধ করতাম, কিন্তু তিনি শুনতেন না।
শামিমের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বৃষ্টি জানান, স্বামীকে নেশা করতে বহুবার বারণ করেছি। কিন্তু সে আমাদেরকে ধমক দিত। মা বলতেন (শ্বাশুড়ি) ওকে কিছু বলো না। মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটা থেকে এগারোটার মধ্যে স্বামীকে হত্যা করেছে।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা জানান, নেশাগ্রস্থ অবস্থায় শামীম হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় শরিফুল ও আজিজুল নামের দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।