রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কেশবপুরে বিধি-নিষেধ অমান্য করায় ব্যবসায়ীসহ ১৭ ব্যক্তিকে অর্থদন্ড শ্বশুরবাড়ি থেকে ঈদে দাওয়াত না পাওয়ায়’ স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা পিরোজপুরের নেছারাবাদ কুড়িয়ানার পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার লৌহগড়ায় ৮০ পিচ ইয়াবাসহ ১ জন আটক দফতরে ফিরতে রিজভীর প্রধান বাধা ফখরুল এই বাংলায় আমি ফিরে ফিরে আসি -এমামুল হক টগর হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের পদ হারালেন লালমনিরহাটে করোনা আক্রান্ত হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের মৃত্যু টেকেরহাট বন্দরে প্রায় ৫ মাস যাবত এই ছেলেটির কোন ওয়ারিশ পাওয়া যাচ্ছে না মাদারীপুরে বাহাউদ্দিন নাছিম ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ফ্রি অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: [email protected]

ঝিনাইদহে ‘ভূতুড়ে’ গ্রাম, ১৫০ বছর ধরে জনশূন্য

Reporter Name
Update : শনিবার, ২৯ মে, ২০২১, ৯:৪৩ পূর্বাহ্ন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: দেশের আর দশটা গ্রামের মতোই এখানে আছে ঘরবাড়ি, পুকুর, ক্ষেত ভরা ফসল। তবে সেগুলো খাওয়ার জন্য কিংবা বাড়িতে থাকার জন্য মানুষ নেই এখানে। এই কথাটি শুনে অবাক হবেন যে কেউ। তবে না কোনো হরর সিনেমার দৃশ্যপট ব্যাখ্যা করছি না। কিংবা ভিনদেশি কোনো দ্বীপও নয় এটি। বাংলাদেশেই রয়েছে এমন এক গ্রাম। যেখানে দেড়শ বছর ধরে কোনো মানুষের বাস নেই। গ্রামটির নাম মঙ্গলপুর। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নে এই গ্রামের অবস্থান।

সরকারি নথিতে গ্রামটির অস্তিত্ব আছে। আছে ফসলি জমি, পুকুর, গাছগাছালি। শুধু নেই কোনো কোলাহল। জনশ্রুতি আছে বহুবছর পূর্বে মঙ্গলপুর গ্রামের মানুষের মধ্যে ‘অমঙ্গল’ আতঙ্ক ভর করে। ভয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যায় মানুষগুলো। সেই থেকে গ্রামটি মানুষশূন্য। এখনো গ্রামজুড়ে রয়েছে ধান, মসুরি, আখসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত এবং ফলের বাগান। রয়েছে বেশ কয়েকটি বসতভিটার ধ্বংসাবশেষ। রয়েছে বেশ কিছু পুকুরও। যা প্রমাণ করে এককালে এখানে মানুষের বাসছিল খুব ভালোভাবেই। তবে কেন এখানে কেউ বাস করে না। এমন প্রশ্ন আপনার মনেও নিশ্চয় জেগে উঠছে বারবার। চলুন জেনে নেয়া যাক এর নেপথ্যের কাহিনী-

এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর এলাকার প্রবীন ব্যক্তি মোশারফ হোসেন জানান, ৮০ থেকে ৯০ বছর পূর্বে মঙ্গলপুর গ্রামে মহামারি আকারে কলেরা রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এতে অনেক মানুষ মারা যান। আতঙ্কে অন্যরা আশপাশের গ্রামে আশ্রয় নেন। কিছু পরিবার ভয়ে গ্রাম ছেড়ে ভারতে চলে যান।

পার্শ্ববর্তী বলাবাড়িয়া গ্রামের আমিরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলপুর গ্রামের অধিকাংশ মানুষ হিন্দু সম্প্রদায়ের ছিল। গ্রামে যখন কলেরা মহামারি আকার ধারণ করে তখন অনেক মানুষ মারা যান। ওই সময় গ্রামে একটা কথা ছড়িয়ে পড়ে গ্রামের খাল-বিল, পুকুর-কুয়ার পানি নষ্ট হয়ে গেছে। এখানে থাকলে সবাইকে মরতে হবে। এই প্রচারের পর গ্রামের মানুষ দল বেঁধে ভারতে চলে যায়। কিছু মানুষ পাশের গ্রামগুলোতে চলে গিয়েছিল, যারা পরে অন্যত্র চলে গেছেন।

দেড়শ বছর আগের কথা এসব। তবে তারও অনেক পরে, আজ থেকে ৮০-৮৫ বছর আগেও হাজরা ঠাকুর, নিপিন ঠাকুররা কয়েকঘর এখানে ছিলেন। তারা মারা যাওয়ার পর সর্বশেষ তাদের পরিবারের নেটো ঠাকুর নামের একজন মঙ্গলপুরে থাকতেন, তিনি পরবর্তীতে খুন হলে গ্রামটি সম্পূর্ণভাবে মানুষশূন্য হয়ে পড়ে।

জানা যায়, এই অঞ্চলে মঙ্গল পাঠান নামের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। তার নামেই প্রবর্তীতে গ্রামটির নামকরণ করা হয় মঙ্গলপুর। মঙ্গল পাঠানের তিন একর জমির উপর ছিল বিশাল এক বাড়ি। বাড়ির চারদিকে উঁচু করে ৩০ থেকে ৪০ ইঞ্চি চওড়া মাটির প্রাচীর ছিল। পাশের পুকুরের উঁচু পাড়ে দাঁড়িয়েও বাড়ির ভেতরের কাউকে দেখা যেত না। তার পরিবার ছিল খুবই পর্দাশীল। বাড়ির মেয়েরা কখনো বাইরে বের হতো না। এমনকি বাইরের কোনো পুরুষের সঙ্গে দেখাও দিতেন না। মঙ্গল পাঠান একসময় সেখানেই মারা যান। তার কবর এখনো রয়েছে এই গ্রামে।

এক সময়ের কোলাহলপূর্ণ গ্রাম কী কারণে এমন মানবশূন্য হয়ে গেল তা ঠিক কেউই বলতে পারে না। আর সময়টাও অনেক বয়ে গেছে। তাই এই প্রজন্মের কেউ এই ব্যাপারে খোঁজও রাখেন না। তবে সবচেয়ে প্রচলিত কারণ হচ্ছে- এক সময় এখানে কলেরা এবং গুটি বসন্ত দেখা দিলে গ্রামের মানুষ মারা যেতে থাকে। এর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল শিশু। ডাক্তার- কবিরাজ, ওঝা, ওশুধ-ঝাড়ফুক কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছিল না। গ্রামের মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে কোনো দৈব শক্তির কারণে এমনটা হচ্ছে। এখানে থাকলে তারা কেউই বাঁচবে না। তাই সবাই সব রেখেই গ্রাম ছেড়ে পালাতে থাকে। পরবর্তীতে তাদের উত্তরসূরিরা এসে তাদের জমি পাশের গ্রামের মানুষের কাছে বিক্রি করে দিয়ে যেন ঝামেলা মুক্ত হয়।

এলাঙ্গী ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, এলাঙ্গী ইউনিয়নটি ১৬টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। যার মধ্যে মঙ্গলপুর একটি। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও যশোরের চৌগাছা উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি গ্রাম এই মঙ্গলপুর। কিন্তু এই গ্রামে কোনো মানুষ বাস করতো না। তারা লোকমুখে শুনেছেন অজানা আতংকে গ্রামের মানুষগুলো গ্রাম ছেড়ে চলে যান।

তিনি আরো জানান, মানুষশূন্য গ্রামটির কথা বর্তমান প্রজন্মের মানুষ ভুলে গিয়েছিল। যা সংবাদপত্রের মাধ্যমে আবারো সবাই জানতে পেরেছেন। এলাঙ্গী ইউপির ভূমি অফিসের সূত্রানুসারে, মঙ্গলপুর গ্রামটি ৬৬ নম্বর মঙ্গলপুর মৌজায় অবস্থিত। এই মৌজায় একটিই গ্রাম রয়েছে। গ্রামে ২০৬ টি খতিয়ানভুক্ত জমি আছে। কিন্তু কোনো পরিবার নেই।

কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। একটি গ্রাম মানুষশূন্য হয়ে গেছে কী কারণে তা খুঁজে দেখবেন বলে তিনি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host