শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: [email protected]

যশোরের কেশবপুরে সবুজের বুকে সূর্যমুখীর হলুদ রাঙা হাসি

আ.শ.ম. এহসানুল হোসেন তাইফুর
Update : বুধবার, ১৭ মার্চ, ২০২১, ৩:১৩ অপরাহ্ন

আ.শ.ম. এহসানুল হোসেন তাইফুর, কেশবপুর প্রতিনিধিঃ দিগন্ত জুড়ে সবুজ ফসলের মাঠ, তার বুকে একখন্ড জমি হলুদে রাঙ্গানো। এ যেন এক নতুন সূর্যের হাসি। চার পাশে বাড়ি মাঝখানে ১০ শতাংশ জমির মধ্যে সূর্যমুখী ফুলের হাসি। সবুজ ফসলের মাঝে হলুদের হাসি আকৃষ্ট করছে সাধারণ মানুষকে। ফুটন্ত সূর্যমুখীগুলো তাকিয়ে আছে সূর্যের দিকে। আর এমন এক বৈচিত্র দেখতে প্রতিদিন আশপাশের এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেকে ক্যামেরাবন্দি করতে ও নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে ছুটে আসছেন সূর্যমুখী হলুদ ছড়ানো ওই জমিতে। কৃষক আব্দুল হামিদ শেখ নিজ বাড়ির পাশে এই সূর্যমুখীর আবাদ করেছেন। কেশবপুর উপজেলায় এ বছর মাত্র ১০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করা হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে সূর্যমুখী ফলানো জমিতে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন মুঠোফোনে ছবি তুলছেন। এ সময় কথা হয় অনেকের সঙ্গে। তারা জানান, ফেসবুকে সূর্যমুখীর সঙ্গে নিজের ছবি দেয়ার জন্য ছবি তুলতে এসেছেন। সত্যি অপরূপ দৃশ্য। কেউ না দেখলে বিশ্বাস করার মতো না। বড়েঙ্গা এলাকায় এ বছর এই ক্ষেত ছাড়া অন্য কেউ সূর্যমুখী চাষ করেনি। সে কারণে এখানে সূর্যমুখী চাষ হওয়ায় দেখতে ও ছবি তুলতে এসেছি।

সূর্যমূখী ক্ষেতের মালিক বড়েঙ্গা গ্রামের মৃত. জামির আলী শেখের ছেলে আব্দুল হামিদ শেখ ওই গ্রামের একজন সফল কৃষক। তিনি জানান, স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে এবার প্রথম তিনি ১০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে শুধু বীজ দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত এই জমিতে তার প্রায় ৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। সূর্যমুখী চাষ করে এবার যে আনন্দ পাচ্ছি সেটা হচ্ছে, অনেকে আমার জমিতে এসে ছবি তুলছেন। সকাল থেকে সারা দিন সূর্যমূখী ফসল দেখতে এবং ছবি তুলতে মানুষ এখানে ভিড় করেন। দিনভর এমন দৃশ্য দেখে আনন্দও লাগে। কারণ তার এ সূর্যমূখী ক্ষেত দেখার জন্য দূর দূরান্ত থেকে পরিবার পরিজন, বন্ধু বান্ধব সহ নানা বয়সী নানা শ্রেণি পেশার মানুষ ভিড় করছেন। এ ক্ষেতের উছিলায় অনেকের কাছে আমার পরিচিতি পেয়েছে। তবে এর মধ্যেও আছে শঙ্কা। কৃষক আব্দুল হামিদ শেখ আরো বলেন, অন্যান্য ফসল নগদ বিক্রি করা যায়। বাজারজাত করার পূর্বেই জমি থেকেও ব্যবসায়িরা ফসল কিনে নেয়। সূর্যমূখী আমাদের এ এলাকায় উৎপাদন কম হয়, কৃষকের মধ্যে এখনো আগ্রহ সৃষ্টি হয়নি। সূর্যমূখীর তৈল সংগ্রহে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা নিতে হবে। ফসল ওঠার পর লাভের হিসেব থেকেই চিন্তা করব, আগামীতে সূর্যমূখী চাষ করবেন কিনা।

এ ব্যাপারে কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা জানান, এ বছর ১০ থেকে ১৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী আবাদ হয়েছে। কৃষক নিজ উদ্যোগে সূর্যমুখীর কোন চাষ করেনি। সোয়াবিন তেলের বিকল্প হিসেবে সূর্যমূখী তেল ব্যবহারে উৎসাহিত করার জন্য কৃষককে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষে বিনামূলে বীজ দেওয়া হয়েছে। আগামীতে সোয়াবিনের পরিবর্তে তেলজাতিয় ফসল সরিসা, তিল ও সূর্যমুখীর চাষে কৃষকদের সরকার ভর্তুকি দিবে। এর বিস্তার ও উপযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে কৃষি অফিস। সোয়াবিনসহ বিভিন্ন প্রকার ভোজ্য তেল নানা কারণে অস্বাস্থ্যকর। সূর্যমূখী ভোজ্য তেল হিসেবে স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী। অন্যান্য তেলবীজে যেসব ক্ষতিকারক উপাদান (বিশেষ করে কোলেস্টেরল) থাকে যা সূর্যমুখীতে নেই বললেই চলে। সূর্যমুখী বীজের তেলে বিদ্যমান ভিটামিন ই আমাদের ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখে। সূর্যমুখী চাষের বিস্তার ও উপযোগিতা বৃদ্ধির পাশপাশি জনপ্রিয়তার উদ্দেশ্যে স্থানীয় কৃষি অফিস নানাভাবে উদ্যোগ নিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host