সনত চক্রবর্ত্তী, বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় ১৩ বছর বয়সের এক কওমী মাদরাসা ছাত্রীকে অপহরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী খরসূতি কওমী মহিলা মাদরাসায় চার জামায়াতে পড়াশোনা করে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে ওই ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে ওই ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামের মেহেদী প্রমানিককে এক নম্বর আসামী করে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার খরসূতি মহিলা মাদরাসার ওই ছাত্রী করোনাভাইরাসের প্রাদুভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্দ থাকায় বর্তমানে নিজবাড়িতে অবস্থান করতেছিলো। সোমবার দিবাগত রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিলে প্রসাব করার জন্য রাত সাড়ে ৯টার দিকে বসতঘর থেকে বাহির হয়। পূর্বে থেকে ওত পেতে থাকা অপহরণকারী গৌরিপুর গ্রামের মেহেদী প্রামানিক তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে ছাত্রীর মুখ বেঁধে বাড়ির পাশের রাস্তায় নিয়ে যায়। এ সময় অজ্ঞাতনামা এক ইজিবাইকে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যায় তারা। ছাত্রীকে ঘরে আসতে না দেখে তার অভিভাবকরা বাহিরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে। এক পর্যায় পরিবারের লোকজন জানতে পারে মেহেদী নামে এক ছেলে লোকজন নিয়ে মেয়েটিকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ওই ছাত্রীর বাবা মো. লাল মিয়া জানান, কিছুদিন আগে মেহেদীর অভিভাবকরা ওই ছাত্রীর বিয়ের প্রস্তাব দেয় মেহেদীর সাথে। ছাত্রীর বয়স কম থাকায় আমি বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ছেলের লোকজন হুমকিও দেয়। মেহেদীর পরিবারকে বিষয়টি জানালে তাঁকে গালিগালাজ ও জীবন নাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি আরো জানান।
অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বোয়ালমারী থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, অপহরণের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। অপহরণের সত্যতা পেলে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।