Monday, September 23, 2019, 3:36 pm

সংবাদ শিরোনাম :
‘তথ্য-প্রমাণ পেলে সম্রাটের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা’ যুক্তরাষ্ট্রকে বাড়াবাড়ি না করতে ইরানের হুঁশিয়ারি কুষ্টিয়া সদর থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজু আটক লতা মঙ্গেশকরের গানে বাঁশি বাজিয়ে ভাইরাল তরুণী অবৈধ জুয়ার আড্ডা বা ক্যাসিনো চলতে দেয়া হবে না: ডিএমপি কমিশনার যুবলীগ নেতা খালেদের বিরুদ্ধে ৩ মামলা, গুলশান থানায় হস্তান্তর ১০ টাকার টিকিট কেটে চোখ দেখালেন প্রধানমন্ত্রী এ বছরে প্রায় ৮ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেছে ঝিনাইদহ বিআরটিএ ঝিনাইদহে গুলিবিদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচার উপায় -মোঃ সালাহউদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক জামালপুরের সেই ডিসি ওএসডি হলেন সাবেক আইজি প্রিজনস সৈয়দ ইফতেখারকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রস্তুত কেরণতলী ঘাট

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রস্তুত কেরণতলী ঘাট

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রস্তুত কেরণতলী ঘাট
ফাইল ছবি

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে মিয়ানমারের একটি দল ঢাকায় এসেছে। আর ২২ আগস্ট আন্তর্জাতিক একটি সংবাদ সংস্থায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় আবারও নড়াচড়া শুরু হয়েছে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে। সরেজমিন দেখা গেছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য গতবছর তৈরি করা টেকনাফের নাফ নদীর সীমান্তে অবস্থিত কেরণতলী ঘাটটিতে আবারও সংস্কারের কাজ চলছে। এখানকার বাতাসে ফিসফাস, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে সহসাই। তবে রোহিঙ্গারা এখনও জানেন না, কীভাবে কোন কোন শর্তে তাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে চায় মিয়ানমার।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য বা পদক্ষেপের বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি)। এই কমিশনের কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালামের কাছে ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কখন প্রত্যাবাসন শুরু হবে সে বিষয়ে এখনও অবগত নই।’

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) আরআরআরসি-এর পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি দেখভাল করছে। এজন্য দেশে ফিরতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে তাদের। তবে বিষয়টি নিয়ে সংস্থাটির কোনও কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি।

এদিকে, শনিবার (১৭ আগস্ট) বিকালে টেকনাফ কেরণতলী প্রত্যাবাসন ঘাট পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে কয়েকজন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেছে। এসময় প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করা একটি দলকেও প্রত্যাবাসন কেন্দ্রের বিভিন্ন স্থান ও কক্ষ ঘুরে দেখতে দেখা যায়। তবে গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যান তারা।

তবে প্রত্যাবাসন ঘাটে দায়িত্বে থাকা প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের প্রতিনিধি মোহাম্মদ শহীদুল হাসান জানান, এই ঘাট দিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হওয়ার কথা রয়েছে। তাই কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এখানে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন কাজকর্ম চলছে।

প্রত্যাবাসন ঘাটে দায়িত্বরত ১৬ আনসার ব্যাটালিয়নের হাবিলদার মোহাম্মদ আইনুল হক বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঘাটে কয়েকদিন ধরে কাজ চলছে। তাদের আমরা সহযোগিতা করছি। শুনেছি, কয়েকদিনের মধ্যে এই ঘাট দিয়ে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যাবে।’

এরপর পাশের নয়াপাড়া শালবন রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে দেখা গেছে, প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ ছাড়া, এই রোহিঙ্গা শিবিরের সিআইসি কার্যালয়ের পাশে ‘প্রত্যাবাসনের তালিকায়’ নাম থাকা রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য তড়িঘড়িভাবে প্লাস্টিকের ছোট ছোট ঘর তৈরি করে ঘেরা দিতে দেখা গেছে। এখানেও বেশকিছু রোহিঙ্গা শ্রমিক কাজ করছিলেন। এর মধ্যে কথা হয় আবদুল করিম নামে এক শ্রমিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে ফেরত যাবে এমন রোহিঙ্গাদের জন্য এসব তৈরি করা হচ্ছে। আমরা শুনেছি, কিছু রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে।’

এই শিবিরের চেয়ারম্যান রমিদা বেগম বলেন, ‘শুনেছি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হবে। তবে হঠাৎ করে কারও সঙ্গে কথা বললে এই প্রত্যাবাসন নিয়ে রোহিঙ্গাদের মাঝে হতাশা বিরাজ করে। কেননা, শিবিরের সিআইসি কার্যালয়ে পাশে এনজিওরা তাড়াহুড়াভাবে ছোট ছোট ঘর তৈরি করছে। এ নিয়ে রোহিঙ্গাদের মাঝে কানাঘুষা চলছে। ’

টেকনাফের জাদিমুড়া ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হোক, সেটি আমরা চাই। তবে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করে নিজ দেশের নাগরিকত্ব দিলে আমরা ফেরত যেতে প্রস্তুত। হঠাৎ করে প্রত্যাবাসনের খবরে রোহিঙ্গারা উদ্বিগ্ন। কীভাবে কী হচ্ছে তা আমরা বুঝতে পারছি না।’

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্টে কোরবানি ঈদের মাত্র কয়েকদিন আগে রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। পুরনোসহ উখিয়া-টেকনাফের ৩০টি শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। এর মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। জাতিগত নিধন ও গণহত্যার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। এ চুক্তি অনুযায়ী ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার তারিখ নির্ধারণ করলেও শেষ সময়ে এসে বেঁকে বসে রোহিঙ্গারা। নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ, সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের কোনও প্রতিশ্রুতি না থাকা, নিজ গ্রামে ফিরে যেতে না দিয়ে বদ্ধ শিবিরে আটকে রাখার আশঙ্কা, নাগরিকত্ব না দেওয়া ইত্যাদি কারণে মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাননি উদ্বাস্তু রোহিঙ্গারা। এ কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও শুরু করা যায়নি। তবে সেসময়েই উখিয়ার ঘুমধুমের প্রত্যাবাসন ঘাটের পাশাপাশি টেকনাফের নাফ নদী তীরের এই কেরণতলী (নয়াপাড়া) প্রত্যাবাসন ঘাটটি নির্মাণ হয়েছিল। এর মধ্যে টেকনাফের প্রত্যাবাসন ঘাটে প্যারাবনের ভেতর দিয়ে লম্বা কাঠের জেটি, ৩৩টি সেমি-টিনের থাকার ঘর, চারটি শৌচাগার রয়েছে। সেখানে ১৬ আনসার ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন অথবা রেজিস্টার করুন

© All rights reserved © 2018 Newssonarbangla