Monday, April 6, 2020, 8:58 pm

সংবাদ শিরোনাম :
করোনা সংক্রমণ রোধে ঝিনাইদহে কঠোর অবস্থানে পুলিশ পাথরঘাটার প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা এড.গোলাম কবির আর নেই বিয়ের আগেই সন্তান প্রসব, দুলাভাই আটক সাধারণ ছুটি আগামী ১৪ই এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকায় প্রবেশ ও বের হতে কড়াকড়ি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে গ্রামবাসির স্বেচ্ছায় লকডাউন মংলা বন্দরে কর্মহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার শ্রমিক ডুমুরিয়ার ভান্ডারপাড়া আবাসনে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলেন ইউএনও ১১ এপ্রিল পর্যন্ত পোশাক কারখানা বন্ধ রাখতে বিজিএমইএ’র আহ্বান বাগেরহাটে ৮ শতাধিক শ্রমিকদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ আসাফো সারা দেশে অসহায় মানুষের খাদ্য সাহায্য করে আসছে বরগুনার পাথরঘাটায় চাল আত্মসাৎকারী চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু আটক

পাপিয়া সাম্রাজ্যের যত খবর

পাপিয়ার সাম্রাজ্যে ১২ রাশিয়ান তরুণী

পাপিয়া সাম্রাজ্যের যত খবর
ফাইল ছবি

আটকের পর বহিষ্কৃত মহিলা যুবলীগ নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার অপরাধ জগতের চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য বের হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দেহব্যবসা, অস্ত্র-মাদক ব্যবসা করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। ক্ষমতার শীর্ষে না থেকেও দাপট দেখিয়েছেন। মনোরঞ্জণ করে মন যুগিয়েছেন ওপরওয়ালাদের। আবার তাদেরই ব্লাকমেইলিং করে ফাঁদে ফেলেছেন। চাকরি দেয়ার নাম করে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ টাকা।  প্রশ্ন ওঠেছে, একজন শামীমা নূর পাপিয়া তো একদিনে তৈরী হয়নি। একদিনে হেরেম খুলে বসেননি তিনি। লোকচক্ষুর আড়ালে বসেও করেননি এগুলো। প্রকাশ্যেই ছিলেন, দাপটেই ছিলেন তিনি। ওঠাবসাও করেছেন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গদের সঙ্গে।  

প্রশ্ন ওঠেছে, কীভাবে তিনি গড়ে তোলেন এই আধুনিক হেরেমখানা। তার এই হেরেমে যাতায়াত করতেন কারা? তার পেছনেই বা কে ছিলো? যাদের কারণে এতোদিন নির্বিঘেœ এসব অপরাধ করে গেছেন তিনি। অনেকে বলছেন, শক্ত রাজনৈতিক কানেকশন তাকে বেপরোয়া করেছে। পাশাপাশি ছিলো প্রশাসনিক ব্যাকআপও।

জানা যায়, ২০০০ সালের দিকে নরসিংদী শহর ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মতি সুমনের উত্থান শুরু। শৈশব থেকেই চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও ব্ল্যাকমেইল ছিল সুমনের প্রধান পেশা। দূরদর্শী, চতুর ও মাস্টারমাইন্ড সুমন রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। ২০০১ সালে পৌরসভার কমিশনার মানিক মিয়াকে যাত্রা প্যান্ডেলে গিয়ে হত্যার পর আলোচনায় আসেন তিনি। এরই মধ্যে বিয়ে করে রাজনীতিতে কাজে লাগান পাপিয়াকে। ভিড়িয়ে দেন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের সঙ্গে।

২০১৪ সালের ১৩ই ডিসেম্বর জেলা যুব মহিলা লীগের সম্মেলনে  তৌহিদা সরকার রুনা সভাপতি ও শামীমা নূর পাপিয়া সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাবেক জেলা সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রয়াত এডভোকেট আসাদুজ্জামানের স্মরণসভায় বিশাল শোউাউন করেন পাপিয়া-মতি সুমন।
এক ব্যবসায়ী জানান, ব্ল্যাকমেইলিংই পাপিয়া-মতি সুমন দম্পতির প্রধান  পেশা। তারা প্রথমে বিভিন্ন ধনাঢ্য ব্যক্তির কাছে সুন্দরী নারীদের পাঠান। তারপর কৌশলে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ডেকে এনে তাদের কর্মকা- ভিডিও করেন। পরে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান লিখেছেন, ‘এদের কেউ রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাবান কেউ বা প্রশাসনিকভাবে ক্ষমতাবান কেউ বা অর্থবান। কেবল বেশ্যাকে আটক করলেই হবে না, তার দালাল এবং খদ্দেররা যত ক্ষমতাবানই হোক তাদেরকেও আটক করা প্রয়োজন। না হয় এই কলুষিত অন্ধকার পথ থেকে রাজনীতি, প্রশাসন ও সমাজকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনা যাবে না। মন্ত্রীদের বাড়ি বাড়ি, অফিসে অফিসে, সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের দুয়ারে দুয়ারে সকাল-সন্ধ্যা দলীয় পদ-পদবি পরিচয়ে একদল নারী কেন ছুটছে? দীর্ঘদিন ধরে এই প্রশ্ন সমাজে ওঠছে। ক্ষমতার ছায়ায় থেকে সারা দেশে কারা নানা পদ-পদবি ও ক্ষমতা এবং অর্থবিত্তের মালিক হচ্ছে এই প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। উত্তর মিলছে না। মানুষের মুখে মুখে একেকটি চরিত্র নিয়ে কত কথা উড়ে। কিন্তু মানুষ অসহায়। অতীতের কোনো কালে এই ধরনের আগ্রাসী রাজনৈতিক বাণিজ্যে একদল অসৎ পুরুষের সঙ্গে এমন করে একদল  লোভী অসৎ নারী পাল্লা দিয়ে ছুটেনি।

কারা চেয়েছেন তাকে শয্যায়। নষ্টদের হাতে সবকিছু চলে যাওয়ায় অসৎ দাপুটেরা ভুলে যাচ্ছে, কী নিয়ে অহংকার করা গৌরবের আর কী নিয়ে আত্মঅহংকারে ভোগা বা দম্ভ করা লজ্জা ও গ্লানির। একটা অস্থির ও অশান্ত সময় অতিক্রম করছি আমরা।

পাপিয়া পিউদের মতো নষ্ট নারী আটক হলে জানা যায় কতটা অপরাধী।  যে নারী ও পুরুষ ক্ষমতার ছায়ায় থেকে ক্ষমতাবানদের সহযোগিতায় অসৎ মতলব হাসিল করে অঢেল অর্থ-সম্পদ বাগিয়ে নিয়েছে তাদের খবর আর জানা যায় না।’

উঠতি বয়সী মেয়েদের ব্যবহার করে অভিনব কৌশলে টাকা কামাতেন আলোচিত যুব মহিলা লীগ নেত্রী সাধারণ সম্পাদক শামিমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ। দেশের মেয়েদের পাশাপাশি এ কাজে তিনি ব্যবহার করতেন বিদেশি তরুণীদেরও। ১২ রাশিয়ান তরুণীকে ফাঁদে ফেলে ভিআইপি খদ্দেরদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ কামাতেন তিনি। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় এমন তথ্য পাপিয়া নিজেই দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

পাপিয়ার বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছেন, বিশেষ ক্যামেরা ব্যবহার করে ভিআইপিদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ভিডিও করে রাখা হতো। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে আদায় করা হতো মোটা অঙ্কের অর্থ। তদন্ত কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এসব কাজে পাপিয়াকে সহায়তা করতেন তার স্বামী সুমন চৌধুরী। বিমানবন্দর থানায় গতকাল মঙ্গলবার দিনভর পাপিয়া-সুমন দম্পতিকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ সময় ঘনিষ্ঠ অনেক ভিআইপির নামও প্রকাশ করেছেন তারা। আর এসব তথ্য পেয়ে বিব্রত পুলিশ কর্মকর্তারা।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, পাপিয়া ও সুমনের মোবাইল ফোনে অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির মোবাইল নাম্বার সেভ করা। ওই ব্যক্তিদের সঙ্গেও তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। গ্রেপ্তারের দিন পাপিয়া র‌্যাব কর্মকর্তাদের হুমকি-ধমকিও দিয়েছেন। এমনকি ধরার পরিণাম ভালো হবে না বলে হুঁশিয়ারিও দেন। ওই সময় মোবাইল ফোনে কয়েকজনের সঙ্গের কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো সাড়া পাননি। পরে পাপিয়াসহ চারজনের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেরে নেয়া হয়। এসময় ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তাদের ব্যাপারে আমরা খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।


দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন অথবা রেজিস্টার করুন

© All rights reserved © 2018 Newssonarbangla