Templates by BIGtheme NET
Home / জাতীয় / শেষ হলো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ উৎসব সপ্তাহ ব্যাপী সাগরদাঁড়ির মধুমেলা

শেষ হলো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ উৎসব সপ্তাহ ব্যাপী সাগরদাঁড়ির মধুমেলা

আ.শ.ম. এহসানুল হোসেন তাইফুর কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : লাখো মধুভক্তের উৎসবমুখর সাগরদাঁড়ির মধুমেলা শেষ হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা উপলক্ষে সাগরদাঁড়ির মেলার মাঠ, জমিদারবাড়ির আম্রকানন, কবিরস্মৃতি বিজড়িত বুড়ো কাঠবাদাম গাছ তলা, বিদায়ঘাটসহ মধুপল্লী এলাকা জুড়ে সকাল থেকে অধিকরাত পর্যন্ত মধুভক্তদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এ মেলা মধুভক্ত লাখো দর্শনার্থীদের প্রাণের ছোঁয়ায় পরিণত হয় মিলন মেলার।
বাংলা সাহিত্যের অমৃত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৪ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২০ জানুয়ারি থেকে কেশবপুরের কপোতাক্ষ নদ তীরের সাগরদাঁড়িতে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা শুরু হয়। সপ্তাহব্যাপী মধুমেলায় লাখো মধুভক্ত আর ভ্রমন পিপাশুদের পদচারণায় মেলাঙ্গণ সরব হয়ে ওঠে। এবারের মধু মেলা অশ্ল্লীলতামুক্ত হওয়ায় মধুভক্তদের নিকট আকর্ষণীয় হয়।  প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাজার হাজার নারী পুরুষ, কিশোর-কিশোরী, শিশুসহ সব বয়সের শ্রেণীপেশার মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে মেলার মাঠে মধুমঞ্চে অনুষ্ঠিত আলোচনা, সাংষকৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, কবিতাবৃতিসহ উন্মুক্ত মঞ্চে যাত্রাপালা দেখে মুগ্ধ হন। পাশাপাশি মেলায় সার্কাস, শুন্যে মোটরসাইকেল চালনা, যাদু, ইঞ্জিনচালিত ট্রেন, নাগরদোলা, ডিজিটাল নৌকা চড়া স্পট গুলোতে শিশু, কিশোর-কিশোরীরাসহ নানা বয়সী মানুষ আনন্দে মেতে উঠে। আবার কেউ কেউ মেলার মাঠে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রীসহ সাংসারিক নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা কাটায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন। মাঠে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস’ায় মধুভক্তরা ঘুরে ফিরছেন নিরাপদে। দুরদুরান্তের দর্শকরাও গভীর রাত অবধি ঘুরে ঘুরে উপভোগ করছেন মেলা।t-pic এবারের মেলায় প্রতিটি স্টলেই আগত মধুপ্রেমী দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়েছে শিশুদের খেলনা জাতীয় দ্রব্য। রেশমী চুড়িসহ মেয়েদের সাজগোজের অন্যান্য মালামালও বিক্রি হয়েছে প্রচুর। মেলার মাঠে এবার ছোট বড় মিলে ৫০০ স্টল বসে। মেলার মাঠে মিষ্টির দোকানগুলোতে ভাজা চানাচুর, মোয়া মুড়ি, নানা জাতীয় মিষ্টির পাশাপাশি এক থেকে দেড় কেজি ওজনের রসগোল্লাও বিক্রি হয়েছে। শীতের নানা রকমের পিঠার পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যসহ মৌসুমি ফল, বাহারি কসমেটিক্সের দোকান, শামুক ঝিনুকের অলংকার, বই, কম্বল, কোর্ট, জুতার দোকানও বসানো হয় মেলা উপলক্ষে। প্রতিটি স্টলেই আগত মধুপ্রেমী দর্শনার্থীদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। গতকাল শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) মধুমঞ্চে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে মহাকবি মধুসূদন পদক- ২০১৮ প্রদান করেন। এবছর মহাকবি মাইকেল মধুসূদন পদক পেয়েছেন সৃজনশীল কবিতা ও নাটক সাহিত্যকর্ম ক্যাটাগরিতে কবি সাবিনা ইয়াসমিন। স্বাস’্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিন ‘ফেরার অংকুশে’ কবিতা গ্রনে’র জন্য এ পদক পান। তিনি ইতিপূর্বে যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া গবেষণা ধর্মী সাহিত্যাকর্ম ক্যাটাগরিতে ‘রবীন্দ্র জীবনে ও সাহিত্যে চট্টগ্রাম’ গ্রনে’র জন্য পদক পান চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডুর লতিফা সিদ্দিকী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শিমুল বড়-য়া। মেলা আয়োজন কমিটি যশোর জেলা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে এবারের মধুমেলা একটি নির্মল মেলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মেলায় আগত মধু প্রেমীরা। সাগরদাঁড়ি মধুসূদন একাডেমির পরিচালক কবি খসরু পারভেজ বলেন, এবারের মেলা অশ্লীলতা মুক্ত হওয়ায় মধুভক্ত দর্শনাথীদের নিকট আকর্ষণীয় হয়ে উঠে। তাছাড়া মধুমঞ্চের সকল অনুষ্ঠান ছিল মনোমুগ্ধকর। মেলার শেষদিন শুক্রবারও মধুভক্তদের পদচারণায় সাগরদাঁড়ি ছিল উৎসব মুখর। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মধুমেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মো. মিজানূর রহমান বলেন, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৪ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এবারের মধুমেলায় লাখো মানুষের সমাবেশ হয়। মেলার মাঠের স্টলগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিলো প্রচুর। সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিসি’তি স্বাভাবিক রাখার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস’ার সদস্যরা সচেষ্ট ছিলেন। মেলা সমাপনী ও পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, যশোরের জেলা প্রশাসক ও মেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন। মধু মঞ্চের আলোচনা শেষে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful