Templates by BIGtheme NET
Home / জাতীয় / যশোরে সাড়ে ৫ হাজার ফিটনেসবিহীন যান, অসহায় বিআরটিএ

যশোরে সাড়ে ৫ হাজার ফিটনেসবিহীন যান, অসহায় বিআরটিএ

যশোরের রাস্তায় ফিটনেসবিহীন সাড়ে ৫ হাজার যানবাহন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এসব যানবাহনের মধ্যে পাঁচ শতাধিক গাড়ির দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রুট পারমিট নবায়ন করা হয়নি। চ্যানেল সিন্ডিকেটকে মাসিক চাঁদা দিয়ে পাওয়া বিশেষ সংকেত বহনকারী স্টিকার লাগিয়ে সারাদেশেই বহাল তবিয়তে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব গাড়ি। ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দারের মতো বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) যশোর সার্কেলের কর্মকর্তারা একের পর এক নোটিশ করেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা না পেয়ে অবৈধ গাড়ি মালিক-শ্রমিকদের লাগাম টানতে পারছে না। ফলে বিআরটিএ কর্মকর্তারা অনেকটা অসহায়ের মতো খাতা-কলমে বকেয়ার হিসেব কষেই চলেছেন। যদিও, বছর শেষে তাদের হিসেবের ফলাফলে মিলছে শূন্য। বিআরটিএ যশোর সার্কেল সূত্রে জানা গেছে, যশোর-নড়াইল জেলা নিয়ে বিআরটিএ যশোর সার্কেল গঠিত। দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিআরটিএ’র এই সার্কেল অফিস জন্মলগ্ন থেকে বাস, মিনিবাস, ট্রাক, পিকআপ, জিপ, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল মিলে প্রায় ১২ হাজার যানবাহনের লাইসেন্স দিচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ওইসব যানবাহনের ফিটনেস নবায়ন, রুট পারমিট, মালিকানা পরিবর্তন, নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নতুন যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন দেয় দফতরটি। তবে গত কয়েক বছর থেকে দেখা গেছে, অস্বাভাবিক হারে যানবাহনের ফিটনেস নবায়ন কমছে। নতুন যানবাহনের মালিকরা গাড়ি বিক্রির ভ্যালুয়েশন ঠিক রাখতে সব কাগজপত্র নবায়ন করলেও অধিকাংশ পুরাতন যানবাহনের মধ্যে বিশেষ করে বাস, মিনিবাস ও ট্রাক বছরের পর বছর ফিটনেস এবং রুট পারমিট ছাড়াই সিন্ডিকেটকে মাসিক ঘুষ দিয়ে বিশেষ সাংকেতিক টোকেন কিংবা স্টিকারের মাধ্যমে রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিআরটিএ এসব যানবাহন মালিককে একের পর এক নোটিশ করেও অফিসে আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিআরটিএ কর্মকর্তারা জানান, এই দফতরের একজন সহকারী পরিচালক, দুইজন পরিদর্শক, একজন সহকারী পরিদর্শক, একজন রাজস্ব কর্মকর্তা, তিনজন অফিস সহকারী ও দুইজন পিয়ন মিলে দুইটি জেলার লোকজনকে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এরমধ্যে বাইরে অভিযানে যাওয়া সম্ভব হয় না। তবুও প্রতি সপ্তাহে একদিন করে মাসে চারদিন জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যানবাহনের উপর অভিযান পরিচালনা করলে সেখানেও বিআরটিএ প্রতিনিধি পাঠানো হয়। বিআরটিএ সূত্র জানায়, যশোরাঞ্চলে চলাচলকারী যানবাহনের মধ্যে প্রায় ৭০ ভাগ গাড়ির ফিটনেস সনদ নেই। এসব যানবাহনকে ফিটনেসের আওতায় আনতে বিআরটিএ কর্মকর্তারা বাস-ট্রাক মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মিটিং করে একাধিকবার নোটিশ করে, এমনকি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও তাদের সাড়া পাননি। এসব যানবাহনের মধ্যে ৩৩১টির ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ফিটনেস সনদ নেই। তাদের জরিমানা মওকুফের সুযোগ দিয়ে ফিটনেস নিতে নোটিশ করেও পাওয়া যায়নি। ফলে সর্বশেষ ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩৩১টি যানবাহনের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়। বিআরটিএ এবং যানবাহন মালিক-শ্রমিকদের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের প্রতিটি জেলায় শ্রমিক সংগঠনকে চাঁদা দিতে হয়। এর পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশ, থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে কাগজপত্র চেক করে। যানবাহনের সব কাগজপত্র ঠিক থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে পুলিশকে ঘুষ দেওয়া লাগে, আবার কোনো কাগজ না থাকলেও ঘুষ দিলে সব ঠিক হয়ে যায়। এ কারণেই অধিকাংশ যানবাহনের মালিক ফিটনেস-রুট পারমিট নবায়ন না করে ঘুষ দিয়েই রাস্তায় চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এদিকে, জেলার এক হাজারের বেশি ইটভাটায় প্রায় ৫ হাজার লক্কড়-ঝক্কড় ট্রাক রয়েছে। সম্প্রতি, জমি চাষের ছোট-বড় ট্রাক্টরের পেছনে ইচ্ছামাফিক সাইজের ট্রাকের বডি লাগিয়ে ইট ও মাটি বহন করছে ভাটা মালিকরা। এসব গাড়ি তৈরির কোনো রকম অনুমোদন না থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ কায়দায় ম্যানেজ করে সবকিছু বহাল তবিয়তে চলছে। এ ব্যাপারে বিআরটিএ যশোর সার্কেলের সহকারী পরিচালক কাজী মোহাম্মদ মোরছালিন বলেন, আমি অল্প কয়েকদিন এই সার্কেলে যোগ দিয়েছি। সবকিছু এখনও জেনে-বুঝে উঠতে পারিনি। তবে, ফিটনেস-রুট পারমিট বিহীন যানবাহনের ব্যাপারে আমি কঠোর অবস্থানে থাকবো। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাহায্য চাইবো।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful