Templates by BIGtheme NET
Home / আন্তর্জাতিক / ভারতের বেহালায় প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের স্কুল হতে চলেছে

ভারতের বেহালায় প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের স্কুল হতে চলেছে

পাড়ার স্কুলে ভর্তি হয়েছিল সুদাম। ছোট থেকেই কেমন কেমন যেন— মেয়েলি?‌ তাই–‌ই হবে!‌ নরম সুরে কথা বলে। পুরুষালি ঝাঁজ নেই। ক্লাসে হাসি–‌ঠাট্টা করত সবাই সুদামকে নিয়ে। শেষমেশ স্কুলে যাওয়াই বন্ধ করে দিল সে। সুদাম জন্মসূত্রে তৃতীয় লিঙ্গ।পূর্ব কলকাতার বাইপাসে পরমা আইল্যান্ডে দাঁড়িয়েছিল সুদাম। নাম পাল্টে এখন সুদামা, তা ওর কাছেই জেনেছিলাম। তপসিয়ার ঘিঞ্জি বস্তিতে বেড়ে–‌ওঠা ওর মতোই মল্লিকা, বীথি, কল্পনারা রোজ সকাল–‌সন্ধে সায়েন্স সিটির গোল চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকে— ট্রান্সজেন্ডার। ট্রাফিকের লাল আলোয় গাড়ি দাঁড়ালেই ছুটে যায় ওরা। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে হাততালি। মেরুন, সাদা, হলুদ— হরেক গাড়ির শার্সি নামিয়ে কেউ কেউ দশ–‌বিশ টাকা গুঁজে দেন সুদামাদের হাতে। কখনও ডাক পড়ে বিয়েবাড়িতে। জন্মদিনের পার্টিতেও। নাচ–‌গানের মৌতাত চলে রাতভর ওদের নিয়ে। ভিনরাজ্যেও যেতে হয় বইকি। রোজগারের আশায়!‌‘‌কিন্তু এটাই কি জীবন?‌ সমাজের মূল স্রোতে কি কখনওই ফিরব না আমরা?‌’‌ নিচু গলায় কিছুটা বিষণ্ণতার সুর সুদামা দাসের। ক্লাস সিক্সের পরই স্কুল ছাড়তে হয়েছিল সহপাঠীদের ব্যঙ্গ–‌বিদ্রুপে। কিন্তু মনের জেদ পিছু ছাড়েনি। এবার তাই তার স্বপ্ন পূরণ করতে শুধুমাত্র ‘‌থার্ড জেন্ডার’‌দের জন্য আলাদা একটি স্কুল খুলতে উদ্যোগী হয়েছে সুদামা ও তার সঙ্গী আরও কয়েকজন। যা সারা দেশেও সম্ভবত প্রথম বলে দাবি তাদের। আর এই উদ্যোগে সামিল হয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে কলকাতারই একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘ফ্রেন্ডস অফ ‌ইনোসেন্স’।‌ স্কুল গড়তে বেহালায় জমি দেবে তারা। পরিচালনায় থাকবেন সুদামার মতো কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ এবং ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মকর্তারা। সংস্থার পক্ষে সুবিমল রায় ও সুপ্রীতি কর দু’‌জনেই বহুদিন এই সব প্রান্তিক মানুষদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সঙ্গে থেকে কাজ করছেন। বৃহস্পতিবার তাঁরা বলেন, ‘নপুংসক বা হিজড়ে বলেই ওদের পরিচিতি আমাদের সমাজে। বরাবরই অবহেলা, মুখ ফিরিয়ে থাকি আমরা। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাপন পায় না। শিক্ষার আলো পৌঁছয় না ওদের মধ্যে। তাই আলাদা করে স্কুল গড়ার চেষ্টা করছি আমরা। যাতে হাত পাততে না ‌হয় জীবনধারণে।’‌ জানালেন, তাঁদের এই নতুন ভাবনার স্কুলে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানোর ব্যবস্থা থাকবে। রাজ্য শিক্ষা দপ্তরে অনুমোদনের জন্য ইতিমধ্যে কাগজপত্র তৈরি হয়ে গেছে। বিকল্প হিসেবে ভারত সরকারের মানবসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের অধীন ‘‌দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওপেন স্কুলিং’‌ (‌এনআইওএস)‌–‌এর অনুমোদনও চাওয়া হবে। ডিসট্যান্স লার্নিং শিক্ষার মাধ্যমে ওই সংস্থা শংসাপত্র দেয় তাদের অনুমোদিত স্কুলগুলিকে।এ দেশে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সমস্যা ও দাবিগুলি নিয়ে বহুদিন ধরে আন্দোলন চলছে বিভিন্ন গণসংগঠনের তরফে। মাত্র কয়েক বছর আগে তাদের লিঙ্গ নির্ধারণে আলাদা সামাজিক স্বীকৃতি দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। পশ্চিমবঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সরকারে আসার পর এদের সামাজিক উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। তৈরি হয়েছে ‘‌ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রান্সজেন্ডার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড’‌। গত বিধানসভা নির্বাচনেও এই প্রথম রিয়া সরকার নামে এক ‘‌ট্রান্সজেন্ডার’‌ মহিলাকে বুথে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেয় নির্বাচন কমিশন।‘‌তা সত্ত্বেও স্কুল–‌কলেজের শিক্ষায় অনেক পিছিয়ে আমরা। স্কুলে ভর্তি হলেও ড্রপ আউট হয়ে যায় অনেকেই। কাজ করতে গেলেও অন্যদের কটূক্তি শুনে ছেড়ে দিতে হয়!‌’‌ ক্ষোভ ঝরে পড়ছিল বীথি পুরকাইতের গলায়। নৈহাটিতে বাড়ি। পরিবারে দারিদ্র নিত্যসঙ্গী। বলল, ‘‌আমি রিকশা  চালাতে চেয়েছি। কিন্তু পারিনি। হিজড়ে বলে উঠতে চাইত না। আর ব্যঙ্গ করত অন্য রিকশাওয়ালারা।’‌ এখন ‘ফ্রেন্ডস অফ ‌ইনোসেন্স’‌ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে হাতের কাজ শেখাচ্ছে মেয়েদের।
‘‌সামাজিক নিরাপত্তা নেই বলেই বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে হাত পাততে হচ্ছে আমাদের।’‌ বলছিলেন সোনারপুরের মল্লিকা সাধুখাঁ। বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর। যাদবপুরে একটি এনজিও–‌তে কাজ করেন। তাঁর কথায়, ‘‌স্কুলশিক্ষা খুবই জরুরি। মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায় বলেই অসহায়তার জীবনে প্রবেশ করতে হচ্ছে। এ থেকে মুক্তি দেবে কে?‌’‌ নতুন ট্রান্সজেন্ডার স্কুল গড়ার শরিক মল্লিকাও।সরকারি সমীক্ষা বলছে, সারা পশ্চিম-বঙ্গে ৩০ হাজারেরও বেশি হিজড়ে সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। এর মধ্যে ভোটার তালিকায় রয়েছেন মাত্র ৭৫৮ জন। ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার সুবিমল রায়ের পর্যবেক্ষণ, ‘‌অধিকাংশ তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরই প্রথাগত শিক্ষা নেই। তাই শুধুমাত্র এদের নিয়ে গড়া আলাদা স্কুল হলে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারবে তারা। কোনও জড়তা থাকবে না। মানসিক জোর পেয়ে ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে পারবে। তাতে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রেও সহায়ক হবে।’‌ দ্বৈতসত্তার টানাপোড়েন থেকে বেরিয়ে এবার সত্যিই হয়ত মূল স্রোতে গা ভাসাবে ‘‌তৃতীয় লিঙ্গ’‌ চিহ্নিত মানুষেরা। মার্চেই স্কুলের উদ্বোধন বলে জানাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
অপেক্ষা শিক্ষার আলোয় নতুন জীবনেরও।‌‌আজকালHizra1

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful